সংগঠনের সহ-সভাপতি ও বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কাজী ফরিদ আহমদকে হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলা এক যৌথ বিবৃতিতে হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও নির্বাচন বিষয়ে কাজ করা সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতাকে এভাবে হুমকি দেয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের হুমকি শুধু একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যই নয়, গণমাধ্যমকর্মী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও হুমকি সৃষ্টি করে। নেতারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাংবাদিক বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের জন্যও উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরএফইডি’র নেতৃবৃন্দ বলেন, কাজী ফরিদ আহমদকে হুমকি দেয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও বিবৃতিতে নেতারা কাজী ফরিদ আহমদ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার দাবি জানান।

আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। কাজী ফরিদ আহমদকে হুমকির ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনকে তার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বনানী থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) সাংবাদিক কাজী ফরিদ আহমদ উল্লেখ করেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১টা ১৯ মিনিটের দিকে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অবস্থানকালে তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা একটি নম্বর থেকে কল আসে। ওই সময় কল দেয়া ব্যক্তি নিজের পরিচয় না দিয়ে তাকে তার কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করেন। সেখানে গেলে তার ক্ষতি করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, হুমকির ঘটনায় কাজী ফরিদ আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ জন্য ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানান।