জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব জাহিদ সুজন।

গোলাম মোস্তফা বলেন, একলাফে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের অপরিপক্বতা ও গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। জনস্বার্থকে অবহেলা করে নেয়া এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে, জনঅসন্তোষ তৈরি হবে এবং বেকারত্ব আরো বাড়বে। জনগণের জীবনযাপনের সমস্যা বিবেচনা না করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে সৃষ্ট সংকটের দায় সরকারকে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শুধু বিরোধিতা ও প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি বাংলাদেশকে ৫৫ বছরেও দাঁড়াতে দেয়নি। বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে প্রয়োজন পুনর্গঠনের রাজনীতি। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে ঐকমত্যের রাজনীতি প্রয়োজন। ন্যূনতম দাবি ও বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে পারলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

যুব ফেডারেশনের নেতারা বলেন, গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। তাদের দাবি, গণতন্ত্র শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জনগণের মতামত, আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগও থাকতে হবে। এ কারণে গণশুনানি ফিরিয়ে আনতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর সিদ্ধান্ত সার্বিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করবে। চলমান সংকট মোকাবেলায় মূল্য বৃদ্ধির পরিবর্তে ভর্তুকি, অপচয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বণ্টনকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

জুলহাসনাইন বাবু বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আগে গণশুনানি ছিল জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ২০২২ সালে বিগত সরকার গণশুনানির নীতি বাতিল করে জনগণের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করেছে। এ সরকারের উচিত আওয়ামী লীগের গণবিরোধী পথ পরিহার করা। কৃষিও শিল্প উৎপাদন, জনজীবন ও কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলে সংকট মোকাবেলার অপচেষ্টা নয়—গণতন্ত্র ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবেলা করতে হবে।

জাহিদ সুজন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে এরই মধ্যেই নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেত হবে। প্রয়োজনে সংকটকালে পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে। সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করতে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে না চাইলে ভুল করবে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুছা কলিমুল্লাহ, রাজা আহম্মেদ জুম্মন ও আইরিন আক্তার, কবি রাসেল, রুবেল মিয়া হিমু, জাসেম আলম।