চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য জীবন বীমা সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। ‘‌প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রজেক্টে’র অংশ হিসেবে মেটলাইফ বাংলাদেশ ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চসিকের ১ হাজার ৮২৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এ বীমা সুবিধা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ইউনিলিভারের প্রধান বাণিজ্যিক কার্যালয়ে মেটলাইফের সঙ্গে ইউনিলিভারের এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে। স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদ এবং ইপসার প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ইউনিলিভারের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর শামিমা আক্তার, মেটলাইফ বাংলাদেশের পরিচালক মো. কামরুজ্জামান, ইউনিলিভারের জনসংযোগ ও প্রজেক্ট ম্যানেজার এস এম ফয়সালসহ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে আলা আহমদ বলেন, ‌এ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে তৈরি করা সম্ভব। নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীরা যেকোনো সময় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। সে চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেয়া।

জাভেদ আখতার বলেন, চট্টগ্রাম সিটির জন্য প্লাস্টিক একটি বড় সমস্যা। নগরীতে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে যেখানে মাত্র নয় থেকে দশ শতাংশ ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে। প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মী অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ কাজ করেন। তারাই আমাদের চালিকাশক্তি। আমাদের উদ্যোগ হচ্ছে এরকম অপ্রাতিষ্ঠানিক বিষয়কে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি। দেশের অর্থনীতিতে এ ব্যবস্থা নিয়ে আসতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সে কাজটাই করছে সিটি করপোরেশন ও ইপসা।

শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‌দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম, যেখানে ৭৫ লাখ মানুষের বসবাস। এ নগরে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ প্লাস্টিক। এর থেকে আমরা সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সংগ্রহ করতে পারি। বাকি ২০ শতাংশ প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যায়। চট্টগ্রামের অভিশাপ জলাবদ্ধতার জন্য প্রধানত দায়ী এ প্লাস্টিক।

তিনি বলেন, আগামীর প্রজন্ম ও একটি ভালো নগরী গড়ে তুলতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য চসিক, ইউনিলিভার ও ইপসার মধ্যে চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

আরিফুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যা সমাধানের জন্য বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। আজকের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারি, বেসরকারি ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে হয়ে কাজটি করছে। এ উদ্যোগ বিশ্বের জন্য একটি মডেল হবে।