নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সাজার চেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া বেশি কার্যকর বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ্। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ্ জানান, নির্বাচনের পর ৭ বছরের জেল হওয়ার চেয়ে ভোটের সময় তাৎক্ষণিক ৭ দিনের সাজা দেয়া হলে তার প্রভাব অনেক বেশি হয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে তৎপর থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সেনাবাহিনী পূর্ণমাত্রায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর এক তৃতীয়াংশ সদস্য মাঠে রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজন হলে দ্রুত এ সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করা হবে।
তিনি জানান, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি সক্রিয় থাকবে। পাশাপাশি একটি বিশেষ সমন্বয় সেল করা হবে। কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সেল কাজ করবে। কোনো বাহিনী অন্য বাহিনীর অধীনে যাবে না। সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে, যাতে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।
সভায় তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি জনগণের কাছে দৃশ্যমান হতে হবে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানকে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে শিগগিরই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
কমিশনার সানাউল্লাহ পোস্টাল ভোটের নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাজেট বরাদ্দ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা ও একতা ছাড়া নির্বাচন সফল হতে পারে না।
পোস্টাল ভোট বাতিলের ছয়টি কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেন। এগুলো হলো ব্যালটে চিহ্ন না থাকা, চিহ্ন অস্পষ্ট হওয়া, একাধিক প্রতীকে চিহ্ন দেয়া, ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না থাকা, নির্ধারিত সময়ের পর ভোট পৌঁছানো এবং আদালতের রায়ে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন হওয়া।
তিনি ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা, সিসিটিভি স্থাপন ও একাধিক বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি থাকবে শুধু রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে।
ভুল তথ্য মোকাবেলায় তিনি একটি কৌশলের কথা জানান। এতে নিরুৎসাহিত করা, অস্বীকার, দাবি যাচাই, প্রভাব বিশ্লেষণ, মোকাবেলা এবং জনসচেতনতা তৈরির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ দেয়া হবে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার সহায়তাও পাওয়া যাবে। নির্বাচন অফিস ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, আচরণবিধি মানা হলে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বিশেষ নজর দেয়ার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করলেও তিনি বলেন, দায়িত্বহীন আচরণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারে। মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আর কোনো রক্তপাত দেখতে চায় না। কমিশন যোগাযোগের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকবে।










