চলতি
বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে বাংলাদেশের
পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই কমেছে। মার্চ মাসে এ সূচক মান ছিল ৬৪ দশমিক
৩ যা এপ্রিলে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬২ দশমিক ২-এ নেমে এসেছে। এটি মার্চের তুলনায় এপ্রিলে
দেশের অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার তথ্য দেয়। দেশে প্রথমবারের মতো মেট্রোপলিটন চেম্বার
অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে
এ সূচক প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে
এই সূচক প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত
ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল। অনুষ্ঠানে পিএমআইয়ের বিভিন্ন দিক তুলে
ধরেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম)
নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন পোহ ও পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ। অনুষ্ঠানে
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী
ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট ডেটা প্রয়োজন। শুধু পর্যাপ্ত
ডেটা থাকলেই হবে না, আমাদের প্রয়োজন গুণগত, উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য ডেটা। নীতি নির্ধারণ,
সম্পদের সুষম বণ্টন ও জনসেবা প্রদানে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্পন্ন ডেটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। পিএমআই ইনডেক্স ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। রিয়েল টাইম ডেটার মাধ্যমে
এটি অর্থনীতির সকল খাতের তথ্য প্রদান করবে। জনগণের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি
খাত এক সঙ্গে কাজ করে যাবে।
ঢাকায়
নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসায়ীদের জন্য
উর্বর ভূমি। এখানে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের
ফালে এখানে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছে। তথ্য উপাত্ত সঠিকভাবে সংগ্রহ এবং সেটি সময়
অনুযায়ী প্রকাশ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো দ্রুত অগ্রগতি
করবে। আমি মনে করি পিএমআই ইনডেক্স সেটি নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এমসিসিআই
জানিয়েছে, এ সূচকের মাধ্যমে দেশ তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুগে প্রবেশ করলো।
শুরুতে প্রান্তিক হিসাবে এবং পরে প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে এ সূচক নিয়মিতভাবে প্রকাশ
করা হবে। সেবা, নির্মাণ, কৃষি ও উৎপাদন। এই চার খাতের কর্মকাণ্ড নিয়েই এ সূচক। সিঙ্গাপুরের
ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের ইউকে ইন্টারন্যাশনাল
লিমিটেড এই সূচক প্রণয়নে সহায়তা করছে। সেবা ও নির্মাণ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের
গতি কমে যাওয়ায় এপ্রিল মাসে অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে। তবে কৃষি ও উৎপাদন খাতের দ্রুততর
প্রবৃদ্ধির কারণে সেই ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া গেছে।
এম
মাশরুর রিয়াজ জানান, মার্চ মাসে সেবা খাতের পিএমআই ছিল ৬৩ দশমিক ৬, এপ্রিল মাসে তা
কমে ৫৬ দশমিক ২-এ নেমে আসে। মার্চ মাসে নির্মাণ খাতের পিএমআই ছিল ৬৭ দশমিক ৭, এপ্রিলে
যা নেমে আসে ৬৩ দশমিক ৮-এ। তার মানে এই দুই খাতের উৎপাদন কর্মকাণ্ড মার্চের চেয়ে এপ্রিলে
খারাপ ছিল। তবে কৃষি ও উৎপাদন খাতের সূচক বেড়েছে। মার্চে কৃষি খাতের পিএমআই ছিল ৫৫
দশমিক ৭, এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ৬০ দশমিক ৯; মার্চে উৎপাদন খাতের সূচকের মান ছিল ৬৮
দশমিক ৪, এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৫। অর্থাৎ এ দুই খাতে মার্চের চেয়ে এপ্রিলে
উৎপাদন বেশি ছিল।
পলিসি
এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান বলেন, কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিষেবাখাতের ৫০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের
তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি আগামীতে আরও বাড়বে। সূচক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের
কাছ থেকে পণ্যের ক্রয়াদেশ, মজুত, উৎপাদন, সরবরাহ পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তথ্য
নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যের নিরাপত্তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এমনকি যেসকল তথ্য প্রকাশ প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো গ্রহণ
করা হয় না। পিএমআই শূন্য থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হবে। আগের মাসের তুলনায়
স্কোর ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ আর তার নিচে হলে সংকোচন বোঝাবে। স্কোর ৫০
হলে ধরে নিতে হবে, ওই প্রান্তিকে কোনো পরিবর্তন, অর্থাৎ অর্থনীতির সংকোচন বা প্রসারণ
হয়নি।










