বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে ব্রাজিলের প্রধান বিচারপতি অ্যান্টোনিও হারমান বেঞ্জামিন বলেছেন, তরুণরা এ দেশকে বদলে দিয়েছে এবং এর থেকে বিশেষ শিক্ষা নিয়েছে পুরো বিশ্ব। এ দেশের তরুণ প্রজন্ম যে বিশ্বকে বদলে দিতে পারে, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা সেটা প্রমাণ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস ইন এনভায়রনমেন্টাল ল অ্যান্ড ক্লাইমেট ল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. খুরশীদ আলম অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এ সময় ঢাবি উপাচার্য বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা দেশের জন্য নয়। এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষাবিদ, গবেষক, পেশাজীবী ও সরকারের মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টিতে এ ধরনের বক্তৃতা আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এরপর পরিবেশ আইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা তুলে ধরেন বিচারপতি অ্যান্টোনিও হারমান বেঞ্জামিন। তিনি বলেন, পরিবেশ আইনের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্ম ও পৃথিবীকে রক্ষা করতে পরিবেশ সংরক্ষণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাদের হাত ধরে দেশের যেকোনো পরিবর্তন সম্ভব। পরিবেশ সংরক্ষণসহ সমাজের সব ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইনজীবী, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।










