যশোর পৌর এলাকায় জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। এতে পৌর এলাকার জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে উৎস হারিয়ে যাওয়ায় কমছে অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ সুবিধা। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পানির জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হবে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে শহরের বেজপাড়ায় একটি বড় পুকুর ভরাট করে সীমানা প্রাচীর দিয়েছে আইটি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

পৌরসভার হিসাবে সরকারি-বেসরকারি ও পৌরসভায় ৩২০টি জলাশয় রয়েছে। তবে প্রতি বছর দু-তিনটি করে জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

যশোর পৌরসভার অন্যতম বড় দুটি জলাশয় আরবপুর দীঘি ও চোরমারা দীঘি। এ দীঘি দুটি ভরাট করা হয়েছে কয়েক বছর আগে। এখন সেই দিঘি পুরো খেলার মাঠ। এছাড়া শহরের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান জেস টাওয়ার ও সিটি প্লাজাও গড়ে উঠেছে পুকুর ভরাট করে। সার্কিট হাউজ পাড়ায় পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়ি। শহরের অধিকাংশ পুকুর, দীঘি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, জলাশয় ভরাটের ফলে ইকোসিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া জলাশয়কে পানি সংরক্ষণাগার বলা হয়। জলাশয়ের পানি শোধন হয়ে ভূস্তরে গিয়ে মেশে। এতে পানির স্তর স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু জলাশয় ভরাট করা হলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। জমির উর্বরতা কমে যায়। মোট কথা, জলাশয় ভরাট করা হলে জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে।

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য জলাশয়ের পানি উৎস হিসেবে ব্যবহূত হয়। জলাশয় ভরাট হয়ে গেলে পানি সংকটে পড়তে হবে। এছাড়া বড় বড় ভবনে রিজার্ভ পানির ব্যবস্থা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জানা মতে অধিকাংশ ভবনে নিজস্ব পানি রিজার্ভের ব্যবস্থা নেই।

যশোর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ সুলতানা সাজিয়া বলেন, জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। ঠেকানো যাচ্ছে না ভরাটকাজ। জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির উৎস কমে যাচ্ছে। ছয় তলার উপরের ভবন নির্মাণ করতে হলে পাশে জলাশয় থাকা জরুরি। এজন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। তবে জলাশয়ের জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদন দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, পৌরসভার জলাশয় সংস্কার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এতে মানুষের পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এছাড়া ভৈরব নদের খননকাজ শেষ হলে শহরের মানুষ সেখান থেকেও পানি কাজে লাগাতে পারবে।