বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংসদে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছ না। ফলে কিছু কিছু স্থানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাসের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নসহ একাধিক সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার (৭ মে) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কথা সংসদে এসেছে। তবে কিশোরগঞ্জের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আর সব থেকে খারাপ আমার নির্বাচনী এলাকায়। জানি না কারণ কি? আমি বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলি বলে সাজা কিনা! এরপর চিফ ইঞ্জিনিয়ার চিঠি পাঠিয়েছেন, আরো একটি ১৩২ কেভি কেন্দ্র শার্ট ডাউন হবে এবং লোডশোডিং বাড়বে। তার মানে সারা দিনই বিদ্যুৎ থাকবে না। এই অবস্থান উন্নতি কিভাবে করবেন?

জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ এলাকায় বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কারণ ওই এলাকায় যে নতুন একটি পাওয়ার প্লান্ট করেছি সেখানে গ্যাসে স্বল্পতা আছে। তাই কেন্দ্রটি পুরো লোডে চালাতে পারি না। আর জামালপুরের দুটো পাওয়ার প্লান্ট তেলের সমস্যার কারণে বন্ধ আছে। আরেকটি কেন্দ্র বন্ধের যে কথা বলেছেন, সেটা আমি দেখব।

এর আগে স্বতন্ত্র সদস্য আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার চেয়েও উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। জানুয়ারি ২০০৯ হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৬ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ৩০ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এ বছর ৩০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট।

একই প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতায় ঘাটতি না থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহ থাকার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, অচিরেই সবাইকে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সুষ্ঠু ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে দেশের মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ লাইন ও ভূ-গর্ভস্থ সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার ৭৭০ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ লাইন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ডিপিডিসি ও ডেসকো এলাকায় যথাক্রমে ৮৫৫ কিলোমিটার ও ২৫০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বিতরণ লাইন স্থাপনে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কাজ শেষ হলে বিদ্যুতের বিতরণ লাইনসমূহে ঝুলন্ত তারের সমস্যা নিরসন হবে বলে আশা করি।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে দৈনিক আনুমানিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। আর ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন নতুন কূপ খনন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ৬৯টি কূপ খননের লোকেশন চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩১টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন জায়গায় কূপের লোকেশন চিহ্নিত করতে ৯টি প্রকল্প গ্রহণ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।