বেনাপোল বন্দরে দুটি ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যের চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি চালানে ব্লিচিং পাউডার ঘোষণা দিয়ে কফিসহ পাউডার জাতীয় পণ্য এবং অন্যটিতে অ্যালুমিনিয়ামের ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড়। এ ঘটনায় দুটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত পণ্যগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক মেসার্স রিড এন্টারপ্রাইজ ১১ নভেম্বর ৪ হাজার ৬৭৫ কেজি ব্লিচিং পাউডার ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে। ১৪ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনাপোলের রিয়াংকা ইন্টারন্যাশনাল পণ্যটি ছাড় করানোর জন্য কাস্টমসে কাগজপত্র দাখিল করে। কাস্টমস পণ্য চালানটি যাচাই-বাছাই করে দেখে, তাতে ঘোষণা অতিরিক্ত ৩৬০ কেজি কফি ও ১ হাজার ৯২৭ কেজি রাসায়নিক পণ্য রয়েছে। এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রিয়াংকা ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে এলটেক অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রি ৯ নভেম্বর ভারত থেকে ১২ হাজার ৯০৮ কেজি অ্যালুমিনিয়াম ইনগট আমদানির ঘোষণা দেয়। এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স ট্রিম ট্রেড। পরে পণ্য চালানটি খুলে ভারতীয় ১৮৬ পিস থ্রি-পিস, শাড়ি ২৫৪ পিস, লেহেঙ্গা ৩৭ পিস, পাঞ্জাবি ৩৭ পিস, থানকাপড় ২৩ দশমিক ৬ মিটার, ফলস কাপড় ৪ পিসসহ অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার কল্যাণ মিত্র চাকমা। মেসার্স ট্রিম ট্রেডের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় আমার প্রতিষ্ঠান জড়িত নয়, গাড়িচালক অন্যদের পণ্য আমাদের চালানের সঙ্গে এনেছে। আমরা চালককে পুলিশে সোপর্দ করব।
মেসার্স রিয়াংকা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী পলক পরশ লাল্টুর সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান আমদানি বেড়েই চলেছে। কখনো কাস্টমস-বন্দরকে ম্যানেজ করে আবার কখনো বিভিন্ন পরিচয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে চলছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির উৎসব। তবে মাঝেমধ্যে দু-একটা চালান জব্দ হলেও অধিকাংশই থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরাও থেকে যায় আড়ালে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, শুল্ক ফাঁকির ঘটনা দুঃখজনক। এসব ঘটনায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, আমরা শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানের সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বাতিল করেছি। ব্লিচিং পাউডারের সঙ্গে কফি ও অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে কাপড় আনার ঘটনায় আমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল ও পণ্যগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি।










