চলতি মৌসুমে বগুড়ায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমেছে। এবার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ জমিতে চাষ শেষ হয়েছে। গত মৌসুমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যদিও আবাদ হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে।
কৃষক বলছেন, এবার বোরো চাষে খরচ বেড়েছে। গত বছর শতক অনুযায়ী পানি সেচ খরচ ছিল ৪৮-৪৯ টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫২ টাকা। কীটনাশক ও সারের দামও বেড়েছে। তবে এ বছর প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বোরো চাষ শুরু করেছেন তারা। বীজতলা থেকে বীজ সংগ্রহ করে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ধান রোপণ চলমান। ১৫ মার্চ রোপণ শেষ হবে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো চাষ হলে এবার ধান পাওয়া যাবে প্রায় সাড়ে আট লাখ টন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে চাল আকারে উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৭ হাজার ৬২৩ টন। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে চাষ হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১০ হেক্টর। চাল আকারে উৎপাদন হয় ৮ লাখ ১০ হাজার ৫৯০ টন। আর চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ জমিতে চাষ শেষ হয়েছে। এ বছর প্রতি হেক্টরে ফলন পাওয়া যাবে পাঁচ-ছয় টন করে।
বগুড়া সদর উপজেলার আশোকালা এলাকার মো. ফারুক জানান, গত বছর ইউরিয়া সার ছিল ১৭ টাকা কেজি। এবার খোলাবাজারে কিনতে হচ্ছে ২০ টাকা দরে। পানি সেচ গত বছর ছিল প্রতি শতক জমিতে ৪৯ টাকা। এবার ৫২ টাকা করা হয়েছে। এ কারণে বোরো চাষে খরচ বেড়েছে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বোরো চাষী ইকবাল হোসেন জানান, ১০ হাজার টাকা খরচে বিঘাপ্রতি ১৮-৩০ মণ ধান পাওয়া যায়। তবে খরচ বাড়লেও এবার ভালো ধান পাওয়া যাবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বগুড়া জেলায় প্রতি বছর বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া যায়। জেলার চাষীরা বোরো ধান চাষে অভিজ্ঞ। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি থেকে বোরো চারা রোপণ শুরু হয়েছে। এ বছর বগুড়া অঞ্চলে শীত বেশি থাকায় বোরোর বীজ তৈরি হয়েছে ঘন কুয়াশার মধ্যে। তবে বীজতলা তৈরির পর সময়মতো চাষ হয়েছে বগুড়ায়।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মতলুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এবার চারা সংকট ছিল না। ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। তবে শীত ও ঘন কুয়াশা ছিল। কুয়াশার কারণে কৃষি বিভাগ থেকে চাহিদার তুলনায় বেশি বীজতলা তৈরি করা হয়। যেন কুয়াশায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যেসব চারা রুগ্ণ সেগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। এজন্য চারা সংকট নেই। চাল আকারে আট লাখ টন উৎপাদন ধরা হলেও সাড়ে আট লাখ টন চাল পাওয়া যাবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষককে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’










