বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলকে জলদস্যু-ডাকাত মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যে কোনো মূল্যে অপরাধীদের দমন করবো। তারা যেন অপরাধ করার চিন্তাও না করে সে কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে। জলদস্যুতা আপনাদের জীবনে কখনও শান্তি ফিরিয়ে আনবে না। বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলকে জলদস্যু-ডাকাত মুক্ত করবো।’

বৃহস্পতিবার (৩০ মে)  চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ এর কার্যালয়ে জলদস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯ বাহিনীর মোট ৫০ জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্যে তিনজনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একজন মহিলা জলদস্যুও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা কখনও অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হয়ে বাধ্য হয়েই এসব কাজে জড়িয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরাও তাদের বাধ্য করেন এসব কাজে জড়াতে। জনগণের কাছে র‌্যাব একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সুন্দরবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় ২০১২ সালে র‌্যাবকে টাস্কফোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করেন। র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানে সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হয়।সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর যারা ফিরে আসেন নাই, তাদেরকেও ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা যাতে আর সে কাজে ফিরতে না পারে সেজন্য তাদের আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। আজ তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কেউ ব্যবসা করছে বা অন্য কাজ করছে। আজকে যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের ধর্ষণও খুনের মামলা ছাড়া অন্য মামলাগুলো আমরা দেখবো। যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের র‌্যাব কিছু টাকা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তাদের জন্য আরো কিছু করা যায় কি না সে প্রচেষ্টা নিবো।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো.মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফ, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, সিএমপি  কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাহমুদ করিম ও জসীম উদ্দীন।