নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের দুটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, এই রায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসার একটা গুরুত্বপূর্ণ দ্বার উন্মোচিত হলো।

রায় ঘোষণার পর গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় নি বদিউল আলম মজুমদার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমি খুব উৎফুল্ল, আনন্দিত এবং অত্যন্ত সন্তুষ্ট এই রায়ে। আমি মনে করি যে, এটা একটা ঐতিহাসিক রায়। এটা একটা সেমিনাল জাজমেন্ট।

তিনি আরো বলেন, এর আগে দুইভাবে কর্তৃত্ববাদী সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একটা হলো ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমে। আরেকটা হলো সংবিধানে ৭ (ক) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা। যে সংবিধান সম্পর্কে কোনো ধরনের সমালোচনা করা হলো সেডিশন। সেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী যারা। আমি নিজেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী। এছাড়াও আরো বহু ব্যক্তি এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ায় এ অপরাধে অপরাধী।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, আমিসহ বহু ব্যক্তি এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। আদালত আমাকে ও এ ব্যাপারে যারা সোচ্চার ছিলেন, তাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও আমরা নাগরিকদের পক্ষে লড়েছি। সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পথে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য রিট করেছি। আজকে আমি পুরো দেশবাসীর জন্য আনন্দিত।

তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে এলো এটি বলা যাবে না। তবে, এই রায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসার একটা গুরুত্বপূর্ণ দ্বার উন্মোচিত হলো। গণতন্ত্র ফিরবে কিনা এটা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কীভাবে আচরণ করা হয়। গণতন্ত্র ফিরে আসা মানে একটা পরিবর্তন। সবাই যদি আচরণে পরিবর্তন আনে, রাজনীতিবিদরা যদি তাদের আচরণে পরিবর্তন আনেন, সবাই নিজেদের করণীয় করেন, তাহলে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আর তা না হলে ফিরবে না।