সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। তবে সিলেট সদরসহ অন্যান্য এলাকায় পানি কিছুটা বেড়েছে। সিলেট নগরীর নিচু এলাকাগুলোয় প্রবেশ করছে সুরমা নদীর পানি। পানি উঠেছে সিলেট নগরীর প্রধান ফায়ার স্টেশন তালতলা স্টেশনেও। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বাড়লেও গতকাল পর্যন্ত তা বিপৎসীমার নিচে ছিল।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ গতকাল বিকালে জানান, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। এ রকম আবহাওয়া থাকলে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০২ জন। এ অবস্থায় জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫৪৭টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু হয়েছে। মোট ৪ হাজার ৮০২ জন বানভাসি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। তারা এখনো আশ্রয় কেন্দ্রেই আছে। বন্যা মোকাবেলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ। এ পাঁচ উপজেলায় অন্তত ৭০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বন্যায় সিলেট নগরীর নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। সুরমার পানি উপচে নগরীর সুবহানীঘাট, তালতলা, জামতলা ও তোপখানা এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি উঠছে ফায়ার সার্ভিসের ব্যারাকে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানি ওঠার কারণে এ স্টেশন থেকে মেশিনারিজ ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর স্টেশনে রাখা হয়েছে।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার তিনটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, ‘পানি একটু কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে ত্রাণ তৎপরতা।’
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরীন বলেন, ‘উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের আটটি প্লাবিত হয়েছে। সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগের চেয়ে কমেছে। উপজেলা সদর থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে আরো দু-একদিন লাগতে পারে।’
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা তাসলিম জানান, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়েছে। কুশিয়ারার অমলসীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ১৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অন্যদিনের তুলনায় কম। সিলেটে শুক্রবারও তেমন বৃষ্টি হয়নি। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ১৩১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী।
সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, ‘পানিবন্দি পরিবারগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে।’
অন্যদিকে সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুরমা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে বড় কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরো বাড়বে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা আপাতত নেই।’










