দেশের ৬৪ জেলায় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫টি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে আব্দুল মোমেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মামলার মধ্যে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪টি দেওয়ানি এবং ২১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৪টি ফৌজদারি মামলা। মন্ত্রী জানান, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি ছিলেন ১০০ জন, এখন সেটা কমে এসেছে। অবসরে গেছেন অনেকে, আপিল বিভাগে গেছেন অনেকে। এখন নেমে এসেছে ৮৪ জনে। রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে শিগগিরই হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করবেন। 

গতকাল স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় আরেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের ১০ জুন থেকে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৮টি দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, মামলার জট কমাতে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আইন তৈরির কার্যক্রমও শেষ করে আনা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলার জট বেড়েছে এটা সঠিক এবং তার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমরা আদালত তৈরি করে বিচারকের সংখ্যা বাড়িয়েছি। যা আগে কখনো হয়নি এখন সেটা হচ্ছে—আগে কখনো বিচারকের পদ শূন্য হওয়ার আগে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস ক্যাডারে পরীক্ষা নিয়ে বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা ছিল না। এখন কিন্তু আমরা সেটা করি যাতে কোনো বিচারক অবসরে গেলে সেই পদটা খালি না থাকে, ত্বরিত যেন আমরা সেখানে বিচারক দিতে পারি। দ্বিতীয় যেটা করা হচ্ছে, বিচারকের পদ সৃজন এবং আদালত সৃজন দুটির জন্যই আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখেছি এবং সেখানে ১৭৮টি পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেটা আসলে আমার মনে হয় মামলার জট কমানোর চেষ্টা করবে। মামলার জট কমানোর জন্য অন্যান্য চেষ্টাও হচ্ছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি ছিলেন ১০০ জন, এখন সেটা কমে এসেছে। অবসরে গেছেন অনেকে, আপিল বিভাগে গেছেন অনেকে। এখন নেমে এসেছে ৮৪ জনে। রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে শিগগিরই হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। বিচারপতি নিয়োগের জন্য আইন যেটা করার সেটাও কিন্তু আমরা শেষ করে এনেছি। হাইকোর্টেও বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে যে আইন প্রয়োজন তা নিয়ে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করতে শিগগিরই একটা সময় ও তারিখ দেয়া হবে।’