সরকারি সেবা নিতে গিয়ে দেশে প্রতি তিনজনের একজনকে ঘুষ দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংস্থাটির জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে ২০২৫’ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১২ মাসে যারা সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে গড়ে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঘুষ দিয়েছেন। জেলা পর্যায়ে এই হার আরো বেশি। নোয়াখালীতে সরকারি সেবা নিতে ৫৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ ঘুষ দিয়েছেন। কুমিল্লায় এ হার ৫৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে ফরিদপুর ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ, ভোলা ৪৯ দশমিক ০১ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জ ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম ঘুষ দেয়ার জেলা হিসেবে উঠে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সেখানে হার ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে মাগুরা ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, লালমনিরহাট ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, গাজীপুর ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং সিলেট ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।
জরিপে লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ঘুষের মুখে পড়েছেন। অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ ঘুষ দেয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ।
আয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গরিবদের তুলনায় ধনী শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ঘুষ দেয়ার প্রবণতা বেশি। ধনী শ্রেণীর ৩৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ঘুষ দেয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। দরিদ্র শ্রেণীতে এ হার ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে হার ৩২ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং উচ্চ মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুষ দেয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।
বিবিএস জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী ও পুরুষ অংশ নেন। নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও বৈষম্য সংক্রান্ত ছয়টি লক্ষ্য মূল্যায়নের জন্য জরিপটি করা হয়েছে।










