দেশে অন্ধত্বজনিত রোগ গ্লুকোমায় আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমানে দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন ব্যক্তি চোখের অন্ধত্বজনিত রোগ গ্লুকোমায় আক্রান্তের ঝুঁকি আছে। এমনকি গত ২০ বছরে দেশে পূর্বের তুলনায় গ্লুকোমা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটি আয়োজিত গ্লুকোমা সার্ভে রিপোর্ট-২০২৪ পাবলিকেশন অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।। জরিপের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. শেখ এমএ মান্নাফ।

জরিপে বলা হয়েছে, দেশে পুরুষদের তুলনায় নারীরা এ রোগটিতে বেশি আক্রান্ত হয়। আর অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রাজধানী ঢাকায় গ্লুকোমা আক্রান্ত রোগীর হার অনেক বেশি।

জরিপে আরো জানানো হয়, গ্লুকোমা শনাক্ত ৩৮৬ জনের মধ্যে ৩০৩টিতে প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, যা প্রায় ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়াও ৬২ জনের মধ্যে (১৬ দশমিক ২ শতাংশ) প্রাইমারি ক্লোজার গ্লুকোমা পাওয়া গেছে। এছাড়াও বাকি ২১ জনের সেকেন্ডারি গ্লুকোমা (৫ দশমিক ৬ শতাংশ) পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জরিপটিতে সর্বমোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজার জন, যেখানে পুরুষ ৫ হাজার ৯৫৩ জন এবং নারীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৭ জন। তাদের মধ্যে শহুরে মানুষ ৩ হাজার ৭৯০ জন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ছিলেন ৯ হাজার ২১০ জন। জরিপে সর্বমোট ৩৮৬ জনের চোখে গ্লুকোমা শনাক্ত হয়েছে, যা শতকরা প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এ সময় ডা. মান্নাফ বলেন, জরিপে আমরা ঢাকায় বেশি রোগী পেয়েছি। আবার লিঙ্গ বিবেচনায় নারীদের মধ্যে রোগটি বেশি পাওয়া গেছে। এমনকি বরিশালের পুরুষের মধ্যে কম এবং ময়মনসিংহের পুরুষদের মধ্যে রোগটি বেশি পেয়েছি। তবে নারীদের ক্ষেত্রে বরিশালে বেশি ও ময়মনসিংহে কম দেখা গেছে

অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা শাহিদ বলেন, দেশে এ মুহূর্তে গ্লুকোমা রোগীর সংখ্যা ১৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯০ জন এবং নারীর সংখ্যা ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৪০ জন। এছাড়াও গ্লুকোমা সন্দেহভাজন রোগী আছে ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪৯৯ জন, যাদের মধ্যে পুরুষ ২৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৫ জন এবং নারী ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩৪ জন।