তৎকালীন সময়ের চুন, সুরকি দিয়ে নির্মিত সুনিপুণ নির্মাণশৈলী আর বাহারি ডিজাইনের মসজিদটি এখনো দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আকর্ষণ করে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আওতাধীন মসজিদটি একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে বহু মানুষ।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬৩৫ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে ফেনীর পূর্বাঞ্চলের স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন চাঁদগাজী ভূঁঞা। ফেনীর সোনাগাজীর পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙনের কবলে পড়ে তিনি প্রচুর ধনসম্পদ ও লোকলস্কর নিয়ে ছাগলনাইয়ার মহামায়া এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। সে সময় মোগল সাম্রাজ্যের সনদপ্রাপ্ত জমিদাররূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। অত্যন্ত ধর্মভীরু এ জমিদার হিজরি ১১২২ (১৭০০ খ্রিস্টাব্দ) সালের দিকে এ ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি নিজের নামে চাঁদগাজী বাজার, কাছারি বাড়ি ও বেশকিছু দিঘি খনন করে ইতিহাসে স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, ২৮ শতক জমির ওপর নির্মিত মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট, প্রস্থ ২৪ আর উচ্চতায় ৩৫ ফুট। মসজিদের ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজ ও ১২টি সুদৃশ্য মিনার রয়েছে, যার মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটি আকারে কিছুটা বড়। গম্বুজগুলোর ওপরে গাছের পাতা ও কলসের চমৎকার নকশা অঙ্কিত। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি প্রধান প্রবেশদ্বারটি কালের বিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে সেখানে কাঠের দরজা লাগানো হয়েছে, যার ওপরের অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটার কাজ।

মসজিদের সামনের অংশে শ্বেতপাথরের নামফলকে আরবিতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, কালেমা তাইয়্যেবা ও ফারসি ভাষায় কবিতার ছন্দে মসজিদটির নির্মাণকাল ও নির্মাতার বর্ণনা রয়েছে। মসজিদের সামনে রয়েছে একটি বিশেষ মিনার। ওজুর জন্য মসজিদের পাশেই রয়েছে ১৮ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি স্বচ্ছ পানির দিঘি।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারহানা পৃথা বলেন, ‘দীর্ঘদিন চাঁদগাজী ভূঁঞা জামে মসজিদটি সংস্কারহীন অবস্থায় ছিল। স্থানীয় উদ্যোগে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা ঐতিহাসিক মসজিদটির সংস্কারকাজ হাতে নেয়া হয়েছে।’