বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারকে ক্যাডার কাঠামোর বাইরে রাখার সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ নীতি-নির্ধারণী সব পর্যায়ের পদে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পড়েন অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তাজিব উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রফেসর ড. রুহুল কাদির, প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রফেসর সৈয়দ মইনুল হাসান এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদির।

লিখিত বক্তব্যে মো. তাজিব উদ্দিন বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে শিক্ষা ক্যাডারকে কাঠামোর বাইরে রাখার প্রস্তাব শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ হাজার কর্মকর্তাকে আহত করেছে। এ প্রস্তাব আমাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম কমিশন আন্তঃ ও অন্তঃক্যাডার বৈষম্য চিহ্নিত করে সমাধান দেবে। কিন্তু এ ধরনের সুপারিশ বিপরীত ফল বয়ে আনবে। আমরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং সংস্কারের নামে আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এ দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শিক্ষা ক্যাডারকে কাঠামোর বাইরে রাখার উদ্যোগ থেকে সরিয়ে আসার দাবি। এছাড়াও উপসচিব পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, নীতি-নির্ধারণী পদে নিজস্ব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৬ স্তরের পদসোপান তৈরি এবং অধ্যাপক পদকে ৩য় গ্রেডে উন্নীতকরণসহ আরো বেশ কিছু দাবি উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সৃজন, নিয়মিত রুটিনে বছরে দুইবার পদোন্নতি, শিক্ষাকে নন-ভেকেশন ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের গাড়ি বরাদ্দ, বদলি নীতিমালা কার্যকরকরণ, ক্যাডারে পার্শ্ব প্রবেশ বন্ধ এবং ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স-এ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন দাবি উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এছাড়া আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের নেতারাও শিক্ষা ক্যাডারের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। দাবি মেনে না নেয়া হলে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।