ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলা শহরে ভেঙে পড়েছে ছোট-বড় গাছপালা। ভেঙে যাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ছিঁড়ে গেছে বৈদ্যুতিক সঞ্চালনকারী তার। এতে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়াও বেশির ভাগ উপজেলা শহর ও গ্রামে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে চরম ভোগান্তি পড়েছেন চট্টগ্রামের মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, মিসরাই, আনোয়ারা, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, কর্ণফুলী ও চন্দনাইশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। এসব উপজেলায় গতকাল সোমবার সকাল থেকে আবার কোথাও রাত থেকেই নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষেরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত, বাতাস ও ঝড়ের কারণে সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের আট উপজেলায় প্রায় ৭০ টির বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙেছে, ৯৫টি খুঁটি হেলে পড়েছে, ৩৪৯ জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে, ২৫টি ট্রান্সফরমার ও ৩৩০টির বেশি মিটার নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টিপাতের চাপ বেশি থাকায় এসব এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতে টানা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হালিশহরে বিদ্যুৎ অফিস ও সাব-স্টেশনে পানি ঢুকে পড়েছে। এজন্য সকাল থেকে হালিশহরও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় এখনো পানি কোমর বা গলা সমান থাকায় নগরীর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সভাপতি চৌধুরী হাছান মাহমুদ আকবরী জানান, বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া ও ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের অনেক জায়গায় লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ছিঁড়ে গেছে। এসব কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। তারপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো জানান, বর্তমান এ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টিপাত কমে গেলে আমরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করবো।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ চট্টগ্রাম দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে যে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি চলছে তাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নগরীর বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতেও নানা সমস্যা হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাত থেকেও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। বৃষ্টিপাত কমে গেলে আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।










