জুলাই অভ্যুত্থানে ব্যবহৃত পেলেট গান ব্যবহারের ফলাফল জনতার সম্মুখে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের নতুন পদযাত্রায় ছররা গুলির ব্যবহার রোধ করতে ‘ছররা গুলির বীভৎসতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (৫ মার্চ) বিকাল ৩টায় ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সকল প্রাণের নিরাপত্তা (সপ্রান) এ সভার আয়োজন করে। গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সপ্রান এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন বয়স এবং বিভিন্ন পেশার ছররা গুলিতে আহত ১১ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে পেলেট গুলিতে আহত ওয়ালিউলের বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা পর্বের সূচনা হয়। তার বক্তব্যে নিজে আহতের পাশাপাশি চোখের সামনে ৩০০ থেকে ৪০০ পেলেটে আহত হয়ে তার এক সহযোদ্ধার নিহতের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন, আহতদের চিকিৎসা এবং অপরাধীদের ন্যায্য বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্ম যেন পেলেট গানের আক্রমণের শিকার না হয় সেজন্য পেলেট গান ব্যবহার বন্ধের আবেদন করেন।

পরবর্তীতে বিশিষ্ট আলোকচিত্রশিল্পী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী এবং বাংলাদেশের ইউএন রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর হুমা খান, আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আর্ভাইনের পিএইচডি গবেষক খন্দকার রাকিব আলোচনা করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শহীদুল আলম তার বক্তব্যে চব্বিশের মর্মান্তিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়কে উল্লেখ করে বলেন, তিনি একাত্তর দেখেছেন সেনাশাসন দেখেছেন কিন্তু জুলাইয়ের মতো নৃশংসতা পূর্বে দেখেননি। এছাড়া তিনি আদালত, আমলাতন্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সংস্থার সংস্কারের পূর্বে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করার আবেদন করেন।

পেলেট গানের বীভৎসতা স্বীকার করে হুমা খান জমায়েত নিয়ন্ত্রণে পেলেট ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেন, এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী যেন আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলে সেদিকে লক্ষ রাখতে পরামর্শ দেন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন পেলেট গান ব্যবহারের মর্মান্তিক দিকটি আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পিএইচডি গবেষক খন্দকার রাকিব জুলাই অভ্যুত্থানে পেলেট গানের ব্যবহারকে সরকারের সুচিন্তিত ওকুলার কন্ট্রোল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে এর মাধ্যমে সরকার সিস্টেমেটিক্যালি জনগণকে পঙ্গু করে দমন করছে কিন্তু হত্যা করছে না। যেন তা দেশে এবং বহির্বিশ্বে প্রকাশ না পায় এবং উদ্দেশ্যও হাসিল হয়।

অনুষ্ঠানে পেলেট গানে আহত রাইসুল রহমান রাতুল এবং মো. নূর হোসেনসহ আরো কয়েকজন বক্তব্য রাখেন, যেখানে তারা ন্যায্য বিচারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হতে না হয় এর দাবি জানান। সবশেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সাংবাদিক, আইনজীবী এবং পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সপ্রানের পক্ষ থেকে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ভূঁইয়া আসাদুজ্জামান, যেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে বলেন, ‘কোনো সরকারের জন্য নয় বরং সপ্রান সর্বদা নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।’