যেসব দোকানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) ও সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) থাকার পরও ভোক্তাকে ভ্যাট চালান দেয়া হয় না, সেখানে ভ্যাট অফিসারদের সপ্তাহব্যাপী পাহারা দিতে বলেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

আজ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে স্বর্ণ আমদানি ও স্বর্ণ নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট অফিসারদের সারা দিন পাহারা দিয়ে লেনদেনের হিসাব দেখতে হবে, ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে হবে। ইএফডি ও এসডিসির সঠিক ব্যবহার করতে হবে। ভোক্তাদের ভ্যাট চালান চাইতে হবে। নাহলে আদায়কৃত ভ্যাট ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যাবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বর্ণের বাজার অন্ধকারে ঢাকা। এখানে আলো আনতে হবে। স্বর্ণ আমদানি খুবই কম। ব্যাগেজ রুলসের অপব্যবহার হচ্ছে। আমরা ব্যাগেজ রুলসে পরিবর্তন আনব। আমদানিকারকদের আগাম আয়কর দিতে হবে। জুয়েলারির তালিকা ধরে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ রুলসের আওতায় স্বর্ণের ওপর কর দিতে হয়। অথচ আমদানির ক্ষেত্রে কর তুলনামূলক কম। তারপরও দেশে স্বর্ণ আমদানি খুব কম। কিন্তু এত জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণ আসছে কোথা থেকে? আমদানির কোনো রেকর্ড নেই!

এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে আসা স্বর্ণের বেশিরভাগই পাচার হয়ে যায়। তাই ভ্যাট চালান নিশ্চিত করতে এনবিআর নতুন ভ্যাট অ্যাপস চালু করবে, যা মোবাইল, ল্যাপটপ ও ট্যাবে ব্যবহার করা যাবে।

এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, ভ্যাট দাতা ও সংগ্রহকারীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নেতারা বলেন, ব্যাগেজ রুলসের আওতায় অনেকেই পুরাতন স্বর্ণ নিয়ে আসেন।

সভায় বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি রিপনুল হাসান ও মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।