ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের হাই কোর্টের ‘কয়েকজন’ বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারপতিদের আচরণ বিষয়ক তথ্য তদন্ত করেছে কাউন্সিল। তদন্ত শেষে তাদের তথ্যাবলি ও কাউন্সিলের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন থেকে ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী, রাষ্ট্রপতি এখন সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বিষয়ে তথ্যাবলী রাষ্ট্রপতির নিকট ইতোমধ্যে প্রেরণ করেছে।”
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া বেশ কয়েকজন বিচারককে অপসারণের দাবি ওঠার পর গত ১৬ অক্টোবর ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বর্তমানে তাদের হাইকোর্টে বিচারকাজ পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিচারপতির বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সুপারিশ পাঠানোর পর রাষ্ট্রপতি তা বাস্তবায়ন করেন। তবে কতজনের তথ্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে।
হাই কোর্টের যে বিচারকদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে, তারা হলেন- বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি আতাউর রহমান খান, বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন, বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম, বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, বিচারপতি খিজির হায়াত ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান।
বিচারপতি অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবিত করে গত ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দিয়েছে। এর ফলে বিচারপতি অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে গত সরকারের সময় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটে।










