বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জুলাই বিপ্লবীদের ওপর চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী হামলা ও হুমকির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাহিদ আহত, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিহান এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমান্ত হত্যাকাণ্ডসহ জুলাই বিপ্লবীদের হত্যা করা, আহত করা, নামে বেনামে হুমকি দেয়া সারা দেশের ছাত্রসমাজকে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।’
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচারের দাবি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে দেয়ার এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ যখন চলমান এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ফেরার চেষ্টা করছে তখন এসব ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’ আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে আবারও অস্থির করে তুলেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জোরালো দাবি করছি যে—
১. অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড, হামলা, হুমকির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্বারা বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. চিরুনি অভিযান চালিয়ে পলাতক সন্ত্রাসী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অপরাধী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
অংশগ্রহণকারীরা আরো বলেন, ‘ছাত্রসমাজ দেশের প্রাণশক্তি। আমাদের কণ্ঠ রোধ করার কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ়ভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের শহীদ সহপাঠীদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’
অবস্থান কর্মসূচিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক কমিটির নফিউল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চের দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।










