যশোরের মণিরামপুরে মাদ্রাসাছাত্র মামুন হাসান (২২) খুনের মাস্টারমাইন্ড সিরাজ, আনিছুর মেম্বার ও ফারুকের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন গ্রামবাসীসহ স্বজনরা।

গতকাল এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ ও শিশু সোহবার মোড়-চাঁচড়া সড়কে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন। নিহত মামুনের মা ছকিনা বেগম, বাবা মশিয়ার রহমান ও বোন লিমা খাতুন মানববন্ধনে অংশ নেন।

ছেলের খুনের বিচারের দাবিসংবলিত ফেস্টুন হাতে ধরে রাখেন ছকিনা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলেরে ওরা ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। খুনিদের বিচার চাই। কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এ নারী।

মামুনের বাবা মশিয়ার গাজী বলেন, ওই রাতে আনিছুর মেম্বার উপস্থিত থেকে আমার ছেলেরে মারাইছে। মেম্বার বলেছে, সকাল হলি মামুনরে ইটভাটায় জ্বালিয়ে দেবে।

মামুনের চাচা রোস্তম গাজী বলেন, সিরাজ ও আনিছুর মেম্বার আমাদের রক্ত দিয়ে গোসল করানোর হুমকি দিচ্ছে। আমাদের এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে। আমরা মেম্বর আনিছুর, সিরাজ ও ফারুকের ফাঁসি চাই।

১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ায় মামুনকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন ওই এলাকার সিরাজ, আনিছুর মেম্বার, ফারুক, লাভলু, সোহাগ, আলতাফ ও তাদের সহযোগীরা। মোবাইল ফোন চোর সন্দেহে তাকে প্রায় ৪ ঘণ্টা নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান। পরদিন সকালে পুলিশ নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন মা ছকিনা বেগম। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে মারা যান মামুন। মামুন মণিরামপুর আলিয়া মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি এলাকায় ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ, ঘটনার রাতে তিনি নিজ গ্রামের আয়নালদের বাড়িতে মোবাইল চুরি করতে ঢুকলে লোকজন তাকে ধরে মারপিট করে। তবে মামুনের মায়ের দাবি, তার ছেলের কাছে কোনো চোরাই মালামাল দেখাতে পারেনি নির্যাতনকারীরা। তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, মানববন্ধনের কথা শুনেছি। মামুন হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়েছে। আমরা তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। জড়িত বাকিদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।