হাওর ও চা বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রায় চার লাখ মানুষের বাস। এখনাকার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে জনবলসহ নানা সংকটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দাবি, হাসপাতালে সেবার মান একেবারেই তলানিতে। তেমন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যায় না এখানে। ওষুধও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকটের মূল কারণ লোকবল কম। এজন্য কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। তবে জনবল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, টেকনিশিয়ান সংকটে প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে মেশিন। দন্ত্য বিশেষজ্ঞ না থাকায় বন্ধ রয়েছে দাঁতের চিকিৎসা। এছাড়া গাইনি সার্জারি না থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবাও। এতে উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

এছাড়া হাসপাতালে নির্ধারিত জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে নিয়োগ হয়েছে পাঁচজনের। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে দুজন অন্যত্র ডেপুটেশনে রয়েছেন। মেডিকেল অফিসার ২৭ জনের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন। নার্স ৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন ২৬ জন। হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট ৬৫ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩১ জন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন রয়েছেন ডেপুটেশনে।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ জন সেবা নেন। প্রতিদিন ভর্তি রোগী থাকছেন ৪৫-৫০ জন। জরুরি বিভাগেও সেবা নিচ্ছেন প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৬০০ রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন এখানে। তাদের মধ্যে অনেকের এক্স-রে করানোর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু নিরূপায় হয়ে জেলা সদর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে এক্স-রে করাতে হচ্ছে তাদের। এতে সময় ও ব্যয় দুই-ই বাড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের চেয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে। যেসব রোগীকে সেবার আওতায় আনা যায় না, শুধু তাদের রেফার করা হচ্ছে। জরুরি বিভাগে যে সাপোর্ট আছে, তা দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফেরদৌস আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। তবে হাসপাতালে টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান হবে।’

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জনবল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। টেকনিশিয়ান নেই, এর চেয়ে বড় বিষয় এক্স-রে কক্ষটি পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত নয়। আমরা কক্ষটি উপযুক্তভাবে তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অর্থ পেলেই কক্ষটি মেরামত করে সেবাটি চালু করা হবে। টেকনিশিয়ান ম্যানেজ করা যাবে এটি সমস্যা হবে না।’