প্রতি বছরই বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ডুবে যায় সিলেট নগর। এবারো সেই আশঙ্কায় রয়েছেন খোদ নগর ভবনের কর্মকর্তারা। কারণ, বিধিনিষেধের পরও আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে নগরের উন্মুক্ত ছড়াগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারাই এসব আবর্জনা সরাসরি ছড়ায় ফেলছেন। এতে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

নগর কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিদিন নগরের বর্জ্য লালমাটিয়ায় ডাম্পিং স্টেশনে নেয়া হচ্ছে। একসময় ২৭টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান ছিল। এখন ৪২টি ওয়ার্ডে চলে কার্যক্রম। কিন্তু জনবল খুব একটা না বাড়লেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে।

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শাখা সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগর পরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সহস্রাধিক কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। দিন-রাত এসব শ্রমিক কাজ করলেও ছড়াগুলো অরক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। ছড়াপাড়ের বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণে আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুরো নগরকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার ক্ষেত্রে নগর ভবনের সক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পুরো নগর এখনো আমরা ডাস্টবিন এবং ময়লার ভ্যানের আওতায় আনতে পারিনি। এর মানে এই নয়, ছড়ায় আবর্জনা ফেলতে হবে। আমাদের প্রধান সমস্যা, সচেতনতার অভাব। এর ফলে অনেক লোকজন, বিশেষ করে যারা ছড়ার পাশে বসবাস করেন, তারা আবর্জনা সরাসরি ছড়ায় ফেলে দেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে আমরা ছড়ার প্রবাহ যতই পরিষ্কার রাখি, বৃষ্টি হলেই ডুববে সিলেট নগর।’

তিনি আরো বলেন, ‘অল্প দিনের মধ্যে এক হাজার ডাস্টবিন এবং ৫০০ ময়লা বহনের ভ্যানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা হলে তখন আমরা বাসাবাড়ির আবর্জনা দ্রুত সংগ্রহ করতে পারব। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আমরা অভিযানে বের হব। এর আগ পর্যন্ত আমরা যতটুকু সম্ভব ছড়া ও নালা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছি এবং জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি।’

সরজমিন নগরীর জালালাবাদ, শিবগঞ্জ, তালতলা, দক্ষিণ সুরমাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, উন্মুক্ত ছাড়ায় আবর্জনার স্তূপ। এসব আবর্জনায় পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছড়াপারের বাসিন্দারাই এসব আবর্জনা সরাসরি ফেলছেন ছড়ায়। বৃষ্টির সময় এসব ছড়া দ্রুত পূর্ণ হয়ে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরের আশপাশ নোংরা হয়ে যায়। কোনো কোনো জায়গায় এসব ময়লা জমে মিনি ডাস্টবিনে পরিণত হয়। এজন্য স্থানীয়দের কেউ কেউ সিসিকের তদরাকির অভাবকে দায়ী করছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন জানান, ওয়ার্ডটি নবগঠিত। পাশের সুরমা নদীতে বিভিন্ন ছড়া ও নালায় গিয়ে মিশেছে। সম্প্রতি এসব ছড়া ও নালায় আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আরো তীব্র হতে পারে।’

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সন্তু বলেন, ‘শুধু অসচেতনতার জন্য হুমকিতে পড়েছি আমরা। যতই ছড়া খনন করি না কেন, আবর্জনা ফেলা বন্ধ না করলে কোনোভাবেই এর সুফল মিলবে না। দুর্ভোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সবাইকে।’

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সংগঠক শুয়াইবুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সিটি করপোরেশন ছড়া-খাল পরিষ্কার করবে, অন্যদিকে অসচেতন মানুষ আবর্জনা ফেলবে, এটা হতে পারে না। অসচেতন মানুষের জন্য প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডুবতে হয় নগরবাসীকে।’

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ নগরী আমাদের সবার। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবারই দায়িত্ব। ছড়া ও নালায় আবর্জনা ফেলা অব্যাহত থাকলে আমাদের দুর্ভোগ আমরাই ডেকে আনব।’ এ ব্যাপারে তিনি সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।