নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করতে ব্যর্থ হওয়ায় যশোরের ৫৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেয়া হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নোটিস করা হয়। ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিস থেকে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স না করেই অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৬টি, শার্শায় ছয়টি, ঝিকরগাছায় ১১টি, চৌগাছায় একটি, মণিরামপুরে আটটি, কেশবপুরে একটি, বাঘারপাড়ায় ছয়টি ও অভয়নগরে চারটি রয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ৫৩ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিসে ২২ অক্টোবর স্বাক্ষর করেন সিভিল সার্জন। পরে পর্যায়ক্রমে নোটিসের কপি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো যশোর শহর ও সদর উপজেলার হাসিনা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম, ফাতেমা হাসপাতাল, রোটারি হেলথ সেন্টার হাসপাতাল, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, আইডিয়াল প্যাথ, আহাদ ডায়াবেটিক অ্যান্ড হেলথ কমপ্লেক্স, নিরাময় ক্লিনিক, ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যশোর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনাইটেড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, আফজালিয়া এস্টেট এসবিএফ কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এএফসি হেলথ ফরটিস আউটরিচ ক্লিনিক, যশোর আধুনিক হাসপাতাল, আলিফ ট্রমা সেন্টার, সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শার্শা উপজেলার আগআঁচড়া নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জোহরা ক্লিনিক, সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবজোন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বার, বুরুজ বাগান জেনারেল হসপিটাল, মা মনি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিকরগাছা উপজেলার আনিকা ক্লিনিক, সিগমা মেডিকেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আবিদ ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেবা ক্লিনিক হাসপাতাল, ডক্টরস এক্স-রে অ্যান্ড প্যাথলজি, সরদার প্যাথলজি সেন্টার, এমএ মেডিকেল, ফায়সার ডিজিটাল এক্স-রে সেন্টার, স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জননী প্যাথলজি সেন্টার, এসএ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, মা মনি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হেলথ কেয়ার মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চৌগাছা উপজেলার ডক্টরস প্যাথলজি, মণিরামপুর উপজেলার ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জিনিয়া প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক, রিজু হাসপাতাল, রাজগঞ্জ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পারবাজার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড কনসালটেশন, সেফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কেশবপুর উপজেলার মহাকবি মাইকেল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ৫৩টি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বণিক বার্তাকে বলেন, যশোরে মোট ২৮৭টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স গ্রহণ ও পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এর মধ্যে ২৩৪টি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করে। বাকি ৫৩ প্রতিষ্ঠান মালিক সরকারি আদেশ মানেননি। ফলে প্রতিষ্ঠান মালিকদের কারণ দর্শনোর নোটিস জারি করা হয়েছে। নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, অনলাইনে আবেদনের পর ২৩৪টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে পক্ষে-বিপক্ষে কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবে আর কোন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবে না, সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বুঝবে।