আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সেমিনারের আয়োজন করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সংস্থাটি আলোক ট্রেনিং সেন্টারে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এ সময় বক্তারা সম-অধিকারভিত্তিক, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবাধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (ডিজি) মো. দাউদ মিয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ব্যান্ড এফ-মাইনর।

স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। তিনি বলেন, মানবাধিকার কেবল দিবস কেন্দ্রিক নয়। এটি সবার জন্য সব সময়। তার মতে, মানবাধিকার আগে বুঝতে হয়, বিশ্বাস করতে হয়, প্রতিদিন তা প্রয়োগ করতে হয়। তিনি আরো বলেন, সমাজে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দেখা যায়। যেকোনো মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করাও একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দাউদ মিয়া বলেন, আগের বছরগুলোতে এনজিওদের জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হতো। চলতি বছর অনুমোদন হয়েছে সাত হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। তিনি বলেন, অনেক সংস্থা ভালো কাজ করে। কেউ কেউ চাইলেও ভালো কাজ করতে পারে না। কারণ নানা সীমাবদ্ধতা আছে।

তিনি নানা রকম সমস্যার দিকে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, যেমন পথচারীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। কাজ করার সময় ঐক্য না থাকায় ফল ভালো হয় না। এ সময় তিনি সমালোচনা করার নিয়ম শেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

দাউদ মিয়া বলেন, এসব বিষয় শিক্ষাক্রমে না থাকায় দুর্বলতা তৈরি হয় এবং এটি সমাধানে নীতি নির্ধারকদের পাশাপাশি এনজিওগুলোকেও ভূমিকা নিতে হবে।

সুলতানা কামাল বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য নতুন নীতি দরকার হয় না। সংবিধানে স্পষ্টভাবে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার দেয়া হয়েছে। কারো প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো বা ক্ষতি না করে মত প্রকাশ করা যায়। তার মতে, মূল সমস্যা হলো এই অধিকার বাস্তবায়ন করা হয় না। যাদের দায়িত্ব মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা, তাদের কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। তিনি বলেন, মানবাধিকার নিত্যদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ। অনেকের কাছে এটি দূরের বা আইনি ধারণা মনে হলেও বাস্তবে মানবাধিকার প্রতিদিনের জীবনকে স্পর্শ করে। মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমতা ও স্বাধীনতা মানবাধিকার থেকেই আসে। তিনি বলেন, উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, মেগা প্রকল্প বা রূপান্তরের আলোচনার পাশাপাশি মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মানবাধিকার ছাড়া উন্নয়ন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সমতা ও ন্যায়বিচার অসম্পূর্ণ থাকে।

তিনি আরো বলেন, জন্ম, ধর্ম, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে মানবাধিকার বদলায় না। এগুলো মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সমাজকে অর্থবহ করে তোলে।