বিএনপি দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের সময় একটা বিষয়ে সবাইকে নজর রাখতে হবে, বিএনপি জানে যে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল। তাদের নেতা নেই, মুণ্ডুহীন একটা দল। একজন পলাতক আসামি, আরেকজন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে। সেই দল এ দেশে নির্বাচন হতে দিতে চায় না। দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়।’ খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে গতকাল এক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ এর আয়োজন করে।
সমাবেশের আগে ২ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির চলমান কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে এনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি এভাবে গাড়িতে আগুন আর মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়াতে চেষ্টা করে, ওই হাত সেই আগুনে পুড়িয়ে দেবেন। আর উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে দেবেন যাতে এ দেশের মানুষের কোনো ক্ষতি করতে কেউ সাহস না পায়। প্রত্যেক এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের নিরাপত্তা দেবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পাশে থেকে আপনারা মানুষের নিরাপত্তা দেবেন।’
জনগণকে আবারো তাদের সেবা করার সুযোগ দিতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আরেকবার সেবা করার সুযোগ দেবেন, সেই আহ্বান জানাই।’ এ সময় নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করে ওয়াদা চাইলে উপস্থিত জনতা দুই হাত তুলে সমস্বরে সাড়া দেয়।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমার লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন। আমার তো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু এ দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে চাই। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আপনারা আমাকে ক্ষমতায় এনেছেন। ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি দেশের উন্নয়ন করেছি। সম্মান এনে দিয়েছি। আজকের বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী হিসেবে এগিয়ে চলেছে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকায় ভোট দিন। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই এসেছে স্বাধীনতা, নৌকাই গড়বে স্মার্ট বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরাই গড়ে দিয়ে যাব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে খুলনার শিল্প-কলকারখানা, মোংলা বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারো মোংলা বন্দর চালু করেছে। পদ্মা সেতু করেছে, মোংলা পর্যন্ত রেললাইন গেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই জনগণের উন্নয়ন হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমরা করি উন্নয়ন আর বিএনপি-জামায়াত সব ধ্বংস করে দেয়।’
খুলনাবাসীকে আরো উন্নয়ন উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনা ও এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে অনেক উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তার পরও আজ যেগুলো উদ্বোধন করা হলো সেগুলো খুলনাবাসীর জন্য উপহার। সামনে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আরো উন্নয়ন করব আমরা।’
মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের, শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, শেখ সারহান নাসের তন্ময় প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এর আগে প্রধানমন্ত্রী খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।










