জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে সদস্যপদ দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
গতকাল সাধারণ পরিষদে এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৩টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। আর বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ নয়টি দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ২৫টি দেশ।
সাধারণ পরিষদের এ ভোটের মধ্য দিয়ে অবশ্য জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ পাবে না ফিলিস্তিন। তবে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে যুক্ত করার পক্ষে এটি একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা থাকবে। এর আগে গত মাসে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির একটি প্রস্তাব উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগে তা খারিজ হয়ে যায়।
২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক (সদস্য নয়) হিসেবে মর্যাদা পাচ্ছে ফিলিস্তিন। জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রথমে সংস্থাটির ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হতে হয়। এরপর সেটি সাধারণ পরিষদে পাস হবে। এ প্রস্তাব আবার নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগে সেটি আবার আটকে যেতে পারে।
সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ছিলেন আল জাজিরার সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্ডো। তার মতে, প্রস্তাবের পক্ষে বিপুল ভোট পড়ার ঘটনাটা খুবই উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ‘যেমনটি আমরা শুনছিলাম, ফিলিস্তিনের পক্ষে ১২০ থেকে ১৩০টির মতো ভোট পড়তে পারে। সর্বোচ্চ তা ১৪০ হতে পারে। তবে ১৪৩টি ভোট পড়াটা একেবারে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।’
ভোটের পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘প্রস্তাব পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা দেখা গেছে যে বিশ্ব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও অধিকারের পক্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের দখলদারির বিপক্ষে রয়েছে।’
সাধারণ পরিষদে এ ভোটের মাধ্যমে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ না পেলেও অতিরিক্ত কিছু সুবিধা ভোগ করবে ফিলিস্তিন। যেমন চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরিষদের অধিবেশন কক্ষে অন্য সদস্যদের সঙ্গে আসন পাবে তারা। তবে কোনো প্রস্তাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে না।










