বিস্ফোরক মামলার আসামি ‘পাগলা’ মিজান। কিন্তু পুলিশের ভুলে একদিন কারাবাস করলেন নিরপরাধ মিজানুর রহমান ওরফে ‘তোতলা’ মিজান। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ পাগলা মিজানকে আটক করতে গিয়ে তোতলা মিজানকে আসামি ভেবে আটক করে। তবে পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি মেলে তার।

পুলিশের ভুলে কারাবাস করা নিরপরাধ তোতলা মিজান যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি দিনমজুর। অন্যদিকে বোমা বিস্ফোরণ মামলার এজাহার ও চার্জশিটের আসামি মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান পাশের গ্রাম সুজলপুর হঠাৎপাড়ার নূরুল হাওলাদারের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শহরতলীর সুজলপুর জামতলা আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির সামনে খোলাডাঙ্গা গ্রামের সাগর, তাহের, সুজলপুরের হঠাৎপাড়ার মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান, নাজু, জাহাঙ্গীর, রিপন, রনি, রবিউলসহ ১০-১২ জন মিলে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখা কিছু পোস্টার টাঙাতে যায়। এ সময় সুজলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম মিঠু তাদের পোস্টার লাগাতে নিষেধ করেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুস সালাম মিঠুকে লক্ষ্য করে কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করে। মিঠুর চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাগর ও তাহেরকে দুটি বোমাসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় আব্দুস সালাম মিঠু বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুজনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তত্কালীন এসআই সোলায়মান আক্কাস। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এসআই হায়াৎ মাহমুদ খান।

মামলার এজাহার ও চার্জশিটে আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। পিতার নাম নূরুল হাওলাদার ও গ্রামের নাম সুজলপুর হঠাৎপাড়া উল্লেখ করা হয়। অথচ গত মঙ্গলবার ভোরে খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজানকে গ্রেফতার করেন কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই আল মিরাজ খান। এ সময় মিজান জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে চাইলেও ওই দারোগা কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

মঙ্গলবার বিকালে আদালতের বারান্দায় সাংবাদিকদের মিজান বলেন, স্যানেটারি মিস্ত্রির কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কোনোদিন মামলা হয়নি। কিন্তু দারোগা কোনো কথাই না শুনে তাকে গ্রেফতার করেন। 

মঙ্গলবার বিকালে জানাজানি হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হন। পরে তারা খোঁজখবর নিয়ে ভুল বুঝতে পারেন। এর প্রেক্ষিতে গতকাল আদালতে বিষয়টি অবহিত করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদি হাসান তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, মিজানকে ধরার অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। বুধবার (গতকাল) আদালতে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর আদালত আটক মিজানের জামিন দিয়েছেন।