বাংলাদেশে দুর্নীতি উদ্বেগজনক অবস্থায় নেই, তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিক মান অনুসরণ করার জন্য এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আয়োজিত ‘মেরিটাইম অ্যান্টি-করাপশন নেটওয়ার্ক (এমএসিএন) বাংলাদেশ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং মেরিটাইম ব্যবসা-বাণিজ্যে জালিয়াতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এমএসিএনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে এমএসিএন বলে, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মেরিটাইম খাতে উল্লেখযোগ্য হারে দুর্নীতি কমেছে। সংস্থাটির নিজস্ব জরিপে এ তথ্য ওঠে এসেছে। জরিপে বলা হয়, ২০১৮ সালে মেরিটাইম খাতে তারা ১৩২টি দুর্নীতির ঘটনা পেয়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে পেয়েছে ৭০টি করে। ২০২১ সালে ৩৪ ও সর্বশেষ ২০২২ সালে ২৪টি দুর্নীতির ঘটনা পেয়েছে তারা।
মেরিটাইম খাতে দুর্নীতির প্রতিকারে এমএসিএন তাদের প্রতিবেদনে নয়টি সুপারিশ করেছে। সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্টেকহোল্ডারদের থেকে প্রাপ্ত পরামর্শের ভিত্তিতে এ সুপারিশগুলো দাঁড় করিয়েছে। সুপারিশগুলো হলো—কোনো ধরনের ভয় বা উদ্বেগ ছাড়াই কর্মীদের তৃতীয় পক্ষের কাছে তাদের উদ্বেগের বিষয়ে কথা বলতে সক্ষম করে তোলা। এক্ষেত্রে একটি কার্যকর এবং গোপনীয় হুইসেলব্লোয়িং প্রক্রিয়া স্থাপন করা যেতে পারে।
এছাড়া জাহাজের জন্য বন্দর খালাসীকরণ প্রক্রিয়া সহজ করা। ওপর থেকে নিচ প্রতিটি পর্যায়ে ঘুসবিরোধী শূন্যসহিঞ্চু সংস্কৃতি তৈরি করা। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে নমনীয়, রাজনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা। বন্দর ও শিপিং ইন্ডাস্ট্রির সব পরিষেবাকে ডিজিটালাইজ করে আইএমও সিঙ্গেল উইন্ডো ধারণার আওতায় আনা। সমষ্টিগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করা। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের মধ্যে মেরিটাইম ইস্যুগুলোর জন্য নির্দিষ্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা। মেরিটাইম বিষয়ক বিচারক ও আইনজীবীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর বোঝা কমাতে দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধন করা।










