কিরগিজস্তানে স্থানীয়দের হামলায় বাংলাদেশের কোনো শিক্ষার্থীর গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে কিরগিজস্তানকে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছি।’

কিরগিজস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ১৩ মে। এদিন রাজধানী বিশকেকে একটি রেস্তোরাঁয় বিদেশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের মারামারি হয়। এরপর গত শুক্রবার মারামারির একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করে এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন কয়েকজন বিদেশী শিক্ষার্থী, যাদের বেশির ভাগই পাকিস্তানের। 

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। কিরগিজস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। এরপর শনিবার রাতে একটি হটলাইন খোলে উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ওই হটলাইনের দায়িত্ব দেয়া হয় দূতাবাসের মিনিস্টার নাজমুল আলমকে। গতকাল তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে সবাইকে নিরাপদ থাকতে বলা হয়েছে।’

কিরগিজস্তানের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ‘২৪ডটকেজি’ জানায়, রাজধানী বিশকেকের অবস্থা শান্ত হয়ে এসেছে। শনিবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়। 

গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা উজবেকিস্তানে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কিরগিজস্তানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও কিরগিজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের ক্রমাগত যোগাযোগ রয়েছে।’

কিরগিজস্তানের অভিবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘মাইগ্রেশন ডাটা পোর্টাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ২০২১ সালে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৪১৮। এর মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার। এর পরেই ছিল পাকিস্তানের শিক্ষার্থী, ১০ হাজারের মতো। বর্তমানে এ সংখ্যা আরো বেশি। কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলিমকাদির বেইশেনালিয়েভ গত সোমবার জানান, তাদের দেশে অধ্যয়নরত পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। অন্যদিকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক বলে ধারণা করছেন উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার নাজমুল আলম। প্রবাসী কর্মী আছে দেড় হাজারের মতো।

হামলার পর পাকিস্তান তাদের অনেক শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরিয়ে নেয়। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার জানান, গতকাল পর্যন্ত তাদের ৬৭০ শিক্ষার্থী দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে গতকাল রাষ্ট্রদূত মনিরুল বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী এ বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাব।’