দেশে মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ আশ্বাস প্রদান করেন নাসার প্রধান নভোচারী জোসেফ এম আকাবা।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস এবং স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত) শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার অনুপ্রেরণা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নাসার প্রধান নভোচারী জোসেফ এম আকাবা বলেন, আমি মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় আমার অভিজ্ঞতা এবং সরকারের আগ্রহে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা ও নভোচারী হওয়ার স্বপ্নপূরণের বাস্তব শিক্ষা নিয়ে কাজ করব। এর জন্য গভীর অনুরাগ ও ক্রেজিনেস থাকতে হবে। তাহলেই আমাদের বিজয় হবে, সফলতা আসবেই। এ সময় তিনি মহাকাশ যাত্রার অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের নতুন সম্ভাবনার গল্প শোনান।
এম আকাবা অসংখ্যবার মহাকাশে গিয়েছেন। সেখানে কাটিয়েছেন ৩০৬ দিন। ঘুরেছেন, দৌড়েছেন, ব্যায়াম করেছেন। রীতিমতো সংসার পেতেছেন মহাশূন্যে। সেখানে কখনো এলিয়েন দেখেছেন কীনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না, আমি এলিয়েন দেখিনি। তবে ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান দেখেছি। এগুলো (ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান) সবই মজার। সেখানে আমরা কঠিন সময়ে এগুলো দেখে সময় কাটিয়েছি, ফুরফুরে মেজাজে থেকেছি।
অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ছয় মাস আগে আমরা কাজাখস্তান থেকে আইএসএসের পথে যাত্রা শুরু করেছিলাম। সেখানে ৩০৬ দিন অতিবাহিত করেছি। বৈরী পরিবেশে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমাদের নিয়মিত ব্যয়াম করতে হয়েছে, দৌড়াতে হয়েছে, ভারোত্তলনও করেছি। সেখানে যেকোনো ভারী জিনিস সহজে পুশ করে বহন করা যায়। আমরা সেখানে একটি গাছও রোপণ করে এসেছি।
আকাবা জানান, মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় জেমস গার্ডনার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মহাকাশ শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন। আমি একজন শিক্ষক। অবশ্যই আমি মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় আমার অভিজ্ঞতা এবং সরকারের আগ্রহে অংশীজনদের নিয়ে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা ও নভোচারী হওয়ার স্বপ্নপূরণের বাস্তব শিক্ষার কাজ করতে চাই।
এ সময় জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বহন করা বাংলাদেশের একটি পতাকা জেমস এম আকাবার হাতে তুলে দেয়া হয়।
সম্মানিত অতিথির ব্ক্তব্যে আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে মহাকাশ বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা, উদ্দীপনা তৈরি হতে হবে। দেশের সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব গুণ লাভ করতে হবে। জোসেফের বাংলাদেশ সফর আমাদের জন্য মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করতে আমাদের তরুণদের আহ্বান জানাই। কাজের প্রতি অনুরাগ থাকলে সফলতা আসবেই।
বেসিস সহায়ক কমিটির চেয়ারম্যান রাফেল কবিরের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক ইউনিট প্রধান জেমস গার্ডনার।
অনুষ্ঠান শেষে মিলনায়তনের প্রবেশের মুখে ৩৬ জুলাইয়ের বীর শহীদ এপিটাফ পরিদর্শন করেন সকল আমন্ত্রিত অতিথি।










