দেশের খ্যাতিমান কবি ও সংস্কৃতি কর্মীরা বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসন কিংবা যুদ্ধ মানুষের স্বাধীনতাকে ধ্বংস এবং তাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করে। ১৫ মে ঢাকায় ‘নাকবা’ দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তারা। রাজধানীর দৃকপাঠ ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছর ১৫ মে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ বা ‘বিপর্যয়’ দিবস পালন করেন। এ নাকবা দিবসের উৎপত্তি ১৯৪৮ সালের ১৫ মে। ইহুদিবাদী মিলিশিয়ারা এদিন ফিলিস্তিনে জাতিগত নির্মূল অভিযান শুরু করে। এর আগে ১৪ মে ইসরায়েল নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।
‘বঙ্গীয় সাহিত্য সভা’র আয়োজনে ‘নাকবা’ দিবসের অনুষ্ঠানে কবি ও সংস্কৃতি অঙ্গনের কাজল শাহনেওয়াজ, শায়ান, সাজ্জাদ শরিফ, শাখাওয়াত টিপু, জহির হাসান, শহীদ কায়েস, সৈকত আমিন, মৃদুল মাহবুব, বায়েজিদ বোস্তামি, রাফসান গালিব, ফেরদৌস আরা রুমি, আলতাফ শাহনেওয়াজ, এমরান মাহফুজ, অরূপ রাহি, শৈবাল নূর, একতিজা আহসান প্রমুখ অংশ নেন।
কবি শাখাওয়াত টিপু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো আগ্রাসন কিংবা যুদ্ধ মানুষের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে ও তাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করে। আগ্রাসন ও যুদ্ধ মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তোলে, সেইসঙ্গে সভ্যতাকে ধ্বংস করে। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও মুক্তিকামী মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার দাবির পক্ষে সোচ্চার হওয়া এখন সবার মানবিক দায়িত্ব হওয়া উচিত।’
তিনি জানান, নাকবা দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী কবিরা কবিতা পাঠ করে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। মৃদুল মাহবুব বলেন, ফিলিস্তিনি মানুষজন যখন বাস্তুচ্যুত, ভূমিহীন ও সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত তখন এ কবিতা মানবতাকে জাগ্রত করবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, কবিতা হলো সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী। মিলিটারি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কবিতা গেরিলা আক্রমণের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।’
ফিলিস্তিনকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘পুরনো ক্ষত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কবি বায়েজিদ বোস্তামি বলেন, ‘এখনো যুদ্ধ চলছে, রক্ত ঝরছে, শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ফিলিস্তিন একদিন স্বাধীন হবে।’










