খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক পেলেন চার মেয়রপ্রার্থী। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন খুলনা নির্বাচন অফিসের সম্মেলনকক্ষে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন। আগামী ১২ জুন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ।
আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল আউয়াল হাতপাখা, জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু লাঙ্গল ও জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন গোলাপ ফুল প্রতীক পেয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডের ১৩৬ জন ও সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের ৩৯ জন প্রার্থীর প্রতীকও বরাদ্দ হয়েছে।
নির্বাচনে মেয়রপদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ে চার মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়। আপিলে একজন বৈধতা পান। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে অবৈধ হয়। আপিলে চারজন বৈধতা পান। আর প্রত্যাহার করেন ১২ জন। সংরক্ষিত আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়। আপিলে দুজনই বৈধতা পান। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ১৭৯ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে চারজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের বিপক্ষে এবার দৃশ্যত শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। এ কারণে ভোট নিয়ে অন্য মহানগরের মতো এখানে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম। তবে ভোট প্রার্থনায় কাউন্সিলর প্রার্থীরাই বেশি ঘুরছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের রয়েছেন একাধিক প্রার্থী।
মেয়র পদে না থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের ১২ কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় এসব প্রার্থী নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় বিএনপি ও জামায়াত। পাড়া-মহল্লায় পথসভা, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তারা। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেন, ‘১৯, ২৪ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে দল থেকে তিন নেতাকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। বাকি ওয়ার্ডে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রয়েছে। এখানে একাধিক নেতা প্রার্থী হলেও দলের আপত্তি নেই।’
গতকাল মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক দৌলতপুর, নিউমার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণ যে রায় দেবে, আমরা সেই রায় মেনে নেব। গাজীপুরে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা আমরা মেনে নিয়েছি। এর আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আমি পরাজিত হয়েছিলাম, তা মেনে নিয়েই এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করেছি।’










