চার টেলিকম অপারেটরের টাওয়ার থেকে গত ২০ মাসে ১৬ হাজার মিটার ক্যাবল, ২ হাজার ব্যাটারি এবং ৫০০টির বেশি রিমোট রেডিও ইউনিট (আরআরইউ) চুরি হয়েছে। একই সময়ে বিটিএস কার্ডসহ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় সরঞ্জামও চুরি হচ্ছে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটছে। একদিকে সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে রাজস্ব হারাচ্ছেন অপারেটররা।
এ বিষয়ে অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা শহর ও এর আশপাশের বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর সাইটে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত আট মাসে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চুরির কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে পাওয়ার কেবল, আরআরইউ, বিটিএস কার্ড ও ব্যাটারি।
অ্যামটবের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এসব চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ও গ্রাহক—দুই পক্ষকেই তাৎক্ষণিক ও গুরুতর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, সামগ্রিক নেটওয়ার্কে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ৫০৭ মিটার পাওয়ার কেবল, ৩৩টি আরআরইউ, ৭৫টি বিটিএস কার্ড ও ২৭টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৩ মিটার, ৫১টি, ৬টি ও ১২৩টি।
রবি আজিয়াটা পিএলসির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত চুরি হয়েছে ৪১৭ মিটার পাওয়ার কেবল, ৪৪টি আরআরইউ, ৪৮টি বিটিএস কার্ড ও ২৫৩টি ব্যাটারি। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১১ মিটার, ১৫৭টি, ১০টি ও ২৭৮টি।
বাংলালিংকের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত চুরি হয়েছে ২৯১ মিটার পাওয়ার কেবল, ৪১টি আরআরইউ, ২৯টি বিটিএস কার্ড ও ২৪টি ব্যাটারি। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৮৯ মিটার, ৪৮টি, ৯টি ও ৫৩টি।
টেলিটকের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত চুরি হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৯ মিটার পাওয়ার কেবল, ৭৬টি আরআরইউ, ১৮টি বিটিএস কার্ড ও ৪৫২টি ব্যাটারি। ২০২৫ সালে চুরির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ৪৪২ মিটার, ৫৮টি, ২২টি ও ৭৯৩টি।
এ বিষয়ে অ্যামটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.) বলেন, ‘ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মোবাইল বিটিএস থেকে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। গত কয়েক বছরে তা অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাওয়ার কেবল, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। এতে গ্রাহক ও অপারেটর—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত ২০ মাসে প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার কেবল, ২ হাজারের বেশি ব্যাটারি এবং ৫০০টির বেশি আরআরইউ (রিমোট রেডিও ইউনিট) চুরি হয়েছে। এমনকি কিছু জায়গায় বিটিএস থেকে কার্ডও খুলে নেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা হলো, এসব যন্ত্রপাতি সহজে স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় না। তাই নতুন করে বসাতে বা মেরামত করতে অনেক সময় ও অর্থ লেগে যায়। এর ফলে নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে এবং গ্রাহকরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হন। পাশাপাশি অপারেটরদের আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। চুরি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা বিটিআরসি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করছি। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য আমরা জনসাধারণের প্রতিও আহ্বান জানাই।’










