গ্যাস ও জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে ভর্তুকি তুলে নেয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন সফররত আর্ন্তজাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের ভর্তুকি ও বসে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।

গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলায় পৃথক বৈঠক করেছে সফররত প্রতিনিধি দলটি। বৈঠকে গত ৩০ এপ্রিল জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বয়ের প্রশংসা করেন তারা। 

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টায় প্রথমে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে জ্বালানি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ এপ্রিল গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়িয়ে ভর্তুকি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক দেখছে আইএমএফ। তিনি বলেন, ‘আইএমএফ মূলত যে ঋণ দেবে সেটা আদায় করার লক্ষ্যে নানা পরার্মশ দেয়।’ 

জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের পর আইএমএফ প্রতিনিধি দল পরে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির গবেষণা বিভাগের উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি শাখার প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওয়। আর বিদ্যুৎ বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফ প্রতিনিধি দল বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। এ সময় তারা বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও জানতে চায়। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ দুটি বিষয় নিয়ে জানানোর পর আইএমএফ প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানান। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) অব্যাহত লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠক করে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি। এ সময় জ্বালানি পণ্য কেনার বিপরীতে বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে আইএমএফ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আইএমএফ প্রতিনিধি পেট্রোবাংলার সামগ্রিক কার্যক্রম জানতে চান। আমরা এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পেট্রোবাংলার ২০৪১ সাল পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন, এলএনজি আমদানি, সরবরাহ, বিক্রি ও রাজস্ব আয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছি।’