উন্নয়নের সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি অনুকরণীয় রোল মডেল। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘টেকসই ভবিষ্যৎ: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা’ শীর্ষক দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ঢাবি অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি উপাচার্য আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য লাইটহাউজ। এ প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলা কীভাবে সম্ভব, সেটা তারা আমাদের কাছে জানতে চান। ব্যাংক খাতে কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়। কীভাবে বিদেশী বিনিয়োগ আনা যায়। কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। কীভাবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা যায় এবং বিদেশে পাঠানো যায়। কীভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনীতির সমস্যা মোকাবেলা করা যায়।’
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব আহরণ পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল। আমরা সবসময় সরকারকে প্রত্যক্ষ কর আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে বলেছি। কিন্তু সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি। আমরা পরোক্ষ করের ওপর যত নির্ভরশীল থাকব, তত আমাদের রাজস্ব আহরণ কমতে থাকবে।’
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সামাজিক অবকাঠামোকে আমরা অবহেলা করে থাকি। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নীতিনির্ধারকরা নীতি প্রণয়নের সময় একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করেন না। এতে নীতিগুলো কার্যকর হয় না।’
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (গবেষণা) ড. সেলিম আল মামুন, অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান এবং অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সাতটি সেশন ও দুটি প্যানেল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা ২১টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।










