গ্যাস কুকার, বিটুমিন, লুব অয়েল ও এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিকারক শাহজাহান সাজুর নামে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। শাহজাহান সাজু মেসার্স এম এস এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিভার্সেল এজেন্সির (সিএনজি ফিলিং স্টেশন) স্বত্বাধিকারী।
এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, ২০১৬-১৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্নে ১৭ কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ও ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য প্রদর্শন করলেও এ করবর্ষে রিটার্ন দাখিলের পর তিনি কোনো সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রয় করেছেন মর্মে দেখাতে পারেননি। তিনি ২০১৬-১৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্নে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে ঋণ দেখিয়েছেন ১৮ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি ঋণ স্থিতি দেখিয়েছেন ২৪ কোটি ২২ লাখ ৪ হাজার টাকা। যাচাইকালে ঋণ স্থিতি পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
ঋণের মধ্যে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তিনি ২০১৬-১৭ করবর্ষে সম্পদ অর্জনের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে উত্তোলিত ১৮ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ দায় দেখিয়ে মোট ২১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য প্রদর্শন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি মোট ১৪ কোটি ৮৪ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। ঋণের বিপরীতে উত্তোলিত অবশিষ্ট ৭ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জনের তথ্য আয়কর নথিতে দেখিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শাহজাহান সাজু ১৯৯৬-৯৭ করবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত তার ব্যবসার আয়, গৃহ সম্পত্তির আয় এবং দায়দেনাসহ মোট আয়ের পরিমাণ প্রদর্শন করেছেন ২৪ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। যদিও তিনি ওই আয়ের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রমাণাদি প্রদর্শন করতে পারেননি। ফলে তার আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা তার বৈধ আয়ের উৎস হতে অর্জিত নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অপরাধ করেছেন।










