রাজধানী ঢাকায় তৈরি নকল শিশুপানীয় ফরিদপুর, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন
স্থানে সরবরাহ হতো বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন
অর রশীদ। বুধবার (৮ মে) বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে শিশু পানীয় তৈরির সময় ৬ জনকে গ্রেফতারের
পর নিজ কার্যালয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিবি প্রধান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজধানীর কদমতলী
থানাধীন মোহাম্মদবাগস্থ সিরাজ ছৈয়ালের ভাড়া দেয়া কারখানায় ভেজাল পানীয় দ্রব্য বাজারজাতের
জন্য উৎপাদন করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৭ মে) অভিযান চালানো হয়। ডিসি তারেক
আহমেদের নির্দেশে এবং এডিসি মো. জুনায়েদ আলমের তত্ত্বাবধায়নে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম
ইনভেস্টিগেশন টিমের এডিসি মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা
হয়।
হারুন অর রশীদ বলেন, সরকার কর্তৃক অনুমোদনবিহীন বিষাক্ত কেমিক্যাল
দিয়ে ড্রিংকো ফ্লোট নাটা ডি কোকো সমৃদ্ধ লিচি আর্টিফিসিয়াল ফ্লেভার ডিংক লেভেলযুক্ত
বোতলজাত কোমল পানীয় তৈরি এবং নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল পণ্য বাজারজাত করে শিশু-কিশোরসহ
সাধারণ জনগণের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাড়ির মালিক সিরাজের সহায়তায় গ্রেফতারকৃতরা
ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভেজাল পণ্য
ফরিদপুর, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে। এসব ভেজাল খাদ্য তৈরির কাচাঁমাল
ও লোগো রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকা থেকে তারা সংগ্রহ করত। গত কয়েকদিনে তীব্র দাবদাহে মানুষের
মাঝে পানীয় পানের চাহিদা বাড়ায় এ ধরনের ভেজাল কোমল পানীয় তৈরি বেড়ে যায় তাদের।
ভেজাল খাদ্য ও নকল স্যালাইন সেবনের পর শরীরের বিভিন্ন ক্ষতির কথা
উল্লেখ করে হারুন অর রশীদ বলেন, ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়। তখন
ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণের জন্য স্যালাইন খাওয়া হয়। নকল স্যালাইন খেলে ইলেকট্রোলাইটের
ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে কিডনি, হার্ট, লিভার ইত্যাদিতে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে।
এছাড়া মস্তিষ্ক ড্যামেজ, কিডনি ও হার্ট ড্যামেজের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
ডিবি প্রধান বলেন, ভেজাল কোমল পানীয় দ্রব্য ড্রিংকো, ফ্রুটো বাজারজাতের
জন্য উৎপাদন করছিল। গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন এই কারখানার মালিক। তিনি ড্রিংকো, ফ্রুটো,
ম্যাংগো জুস ইত্যাদি ২৫-৪০ শতাংশ কমিশনে লোভনীয় অফারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেসবুকে
বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। আনোয়ার গত ২ বছর ধরে অনুমোদনবিহীন ভেজাল শিশু খাদ্য নামিদামি
ব্র্যান্ডের মোড়কে স্যাকারিন, পানি, আর্টিফিসিয়াল ফ্লেভার, মানহীন কেমিক্যাল দিয়ে অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশে ভেজাল কোমল পানীয় ড্রিংকো, ফ্রুটো, ম্যাংগো জুস তৈরি করছিল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন শিশু খাদ্য তৈরি কারখানার মালিক মো. আনোয়ার হোসেন
(৩৮), ডিলার শাহ নেওয়াজ খান (৩৩), বিক্রয়কর্মী মোরশেদুল ইসলাম (৫১), উৎপাদনকারী সবুজ
মিয়া (২৩), উৎপাদনকারী মো. আরিফ (২৩) এবং নকল টেস্টি স্যালাইন তৈরি কারখানার মালিক
হানিফ মিনা (৩০)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়- ১ হাজার লিটারের নরমাল পানি রাখার
একটি রিজার্ভ ট্যাংকি, তিনটি ফিল্টার, একটি অ্যারো মেশিন, ১ হাজার লিটারের একটি বিশুদ্ধ
পানির রিজার্ভ ট্যাংকি, ৫০০ লিটারের পানির হিটার মেশিন একটি, কেমিক্যাল মিক্সার মেশিন
একটি, ১৫০ লিটারের বোতল ফিলিং মেশিন একটি, ৩০ কেজির কোকোনাট নাটা লিকুইড ৬ প্যাকেট,
ড্রিংকো ফ্লোট নাটা ডি কোকো সমৃদ্ধ লিচি আর্টিফিসিয়াল ফ্লেভার ড্রিংক (২৫০ মিলি) স্টিকার/লেভেলযুক্ত
বোতলজাত কোমল পানীয় ৫৫ কেস, স্টিকার/লেভেল ছাড়া বোতলজাত কোমল পানীয় ১০০ পিস, ড্রিংকো
লোগোযুক্ত স্টিকার ১০০ টি, প্যাকেটজাত করার হিট মেশিন চারটি ও পানির টিডিএস মাপার মেশিন
একটি।










