বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বর্ধিতকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। প্রকল্পের আওতায় তিনটি সেতুও নির্মাণ করার কথা। এক বছর আগে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণ করা হয়নি সেতু তিনটির সংযোগ সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক রাখা হয়নি। এখন সড়ক ও সেতু কোনোটাই ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। বর্ষাকালের আগে সড়ক নির্মাণকাজ শেষ না হলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে ছয় গ্রামের ১৫ হাজার মানুষকে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার কৈয়েরপাড়া মসজিদ থেকে দেলুয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সড়কটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ শেষে ২০২২ সালে খুলে দেয়ার কথা ছিল। তবে সামান্য কিছু কাজ করে চলে গেছেন ঠিকাদার।
কৈয়েরপাড়া গ্রামের মোছা. কাজুলী বেগম জানান, এক বছর আগে সড়কটির কাজ শুরু হয়। এখন কাজ একেবারেই বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারকে আর দেখা যায় না। সড়কের কিছু কিছু স্থানে আবারো ক্ষয়ে যাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গভাবে মেরামত না করলে বর্ষাকালে আবারো ভেঙে যাবে। দেড় কিলোমিটার সড়কের মাঝে তিনটি ছোট সেতুও আছে। তবে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী তরফদার জানান, কয়েক মাস আগে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে দেলুয়াবাড়ী ও দিঘলকান্দি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যেই কাজটি শেষ করার শর্ত ছিল। সেটি করা হয়নি।
তবে নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফয়েজ মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কাজটি আগের মূল্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই পুনঃটেন্ডার বা বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে। তবে কাজ ছেড়ে চলে যাইনি। এ কাজের জন্য ২০ লাখ টাকা জামানত দেয়া আছে। অনেক কাজ এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ শতাংশ বিলও পাওয়া যায়নি। তার পরও কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কাজটি নেয়ার পর পরই নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। সে কারণে কাজটি পুনরায় রিভাইস অনুমোদন নিয়ে শেষ করতে হবে। কাজ ছেড়ে পালানোর কোনো সুযোগ নেই।’
সারিয়াকান্দি পৌরসভার কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কটি সংস্কার ছাড়াও তিনটি ছোট সেতু নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। নিয়ম অনুয়ায়ী সেতুতে মাটি ফেলে সংযোগ সড়ক তৈরি করতে হবে। কিন্তু সেটি করা হয়নি। শুধু সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু তিনটিও পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে প্রতিদিন। কাজটি ফেলে রাখায় চার কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘কাজটি শেষ করার কথা ছিল ২০২২ সালে। সেই কাজটি প্রায় দেড় বছরেও শেষ হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসেও জানানো হয়েছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগিরই কাজটি শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুত তিনি কাজ শুরু করবেন।’










