গত বোরো মৌসুমে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার পরও চাল না দেয়ায় যশোরের ৮২ মিল মালিকের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে সরকার আগামী দুই বছর চাল কিনবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া মিলগুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে নয়টি, অভয়নগরে একটি, কেশবপুরে ২৪টি, ঝিকরগাছায় নয়টি, শার্শায় ১৪টি, বাঘারপাড়ায় সাতটি এবং চৌগাছা উপজেলায় রয়েছে ১৮টি মিল।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোরে গেল বোরো মৌসুমে ২৭ হাজার ৩১২ টন চাল সরবরাহ করবে বলে চুক্তি করেন ৩৬১ জন রাইস মিল মালিক। অথচ ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সরকারকে দিয়েছেন মাত্র ১৫ হাজার ১০৫ টন। এসব রাইস মিল মালিকের মধ্যে ৮১ জন মিলার একেবারেই চাল দেননি। আংশিক চাল দিয়েছেন ১১১ জন। আর সম্পূর্ণ চাল দিয়েছেন ১৪৫ জন মিল মালিক। এটি হাসকিং মিলের ক্ষেত্রে। ২৪ জন অটো মিল মালিকের মধ্যে একজন একেবারেই চাল দেননি। ১৩ জন মিলার আংশিক দিয়েছেন। আর চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ চাল দিয়েছেন ১০ জন অটো রাইস মিল মালিক।
বোরো মৌসুমে যশোরে ১০ লাখ ৩০ হাজার ৭৬৬ টন ধান উৎপাদন হয়। আর চাল উৎপাদন হয়েছিল ৬ লাখ ৮০ হাজার ৩০৬ টন। ২৭ হাজার ৩১২ টনের জায়গায় খাদ্য বিভাগের সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ১০৫ টন চাল।
যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল রহমান জানান, ৮২ জন মিল মালিকের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে চলতি আমন মৌসুম ও আগামী বছর কোনো চাল কেনা হবে না। চলতি আমন মৌসুমে সরকার যশোর থেকে ৫ হাজার ১ টন ধান কিনবে ২৬ টাকা কেজি দরে।










