নিম্ন আয়ের মানুষকে জিম্মি করে ভারতে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. রাজু হাওলাদার, শাহেদ উদ্দীন ও আতাহার হোসেন বাপ্পী।

গতকাল অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) ড. খ. মহিদ উদ্দিন জানান, শনিবার ধানমন্ডিতে অভিযান চালিয়ে রাজু হাওলাদার ও শাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। আতাহার হোসেনকে বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে কিডনি হারানো ভুক্তভোগী মো. রবিন খানের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালে এপ্রিলে মিরপুরে এক বন্ধুর সঙ্গে চা খেতে খেতে সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন রবিন। পাশে বসা মাছুম তা শুনে রবিনকে বলে, ভারতে তার ব্যবসা আছে এবং রবিনকে তিনি চাকরি দিতে পারবেন। পরে তার সঙ্গে রবিনের ১৫-২০ দিন মোবাইল ফোনে কথা হয়। মাছুম তাকে ভারত নিয়ে যাওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেয়ার প্রস্তুতি দিলে সে রাজি হয়। এমনকি তাকে পাসপোর্ট করতেও সাহায্য করে মাছুম। পরে তাকে ভারতে তার প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে বলে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে এ চক্রের আরেক সদস্য অভিযুক্ত মো. রাজু হাওলাদারের সঙ্গে রবিনের পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করে ভারতের ভিসা করানোর জন্য ভিকটিমের পাসপোর্ট রেখে দেয়।

রবিন জানান, তাদের দেয়া বিমানের টিকিট নিয়ে রবিন ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে যায়। সেখানে এ চক্রের অন্য দুই সদস্য অভিযুক্ত শাহীন ও সাগর ওরফে মোস্তফা বিমানবন্দর থেকে রবিনের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। তারা রবিনকে ভারতের ফরিদাবাদ এলাকায় নিয়ে একটি বাসায় ২০-২৫ দিন আটকে রাখে। এর মধ্যে মাছুম বাংলাদেশ থেকে সেখানে যায়। মাছুমকে পেয়ে ভিকটিম তার চাকরির কথা জিজ্ঞাসা করলে সে টালবাহানা করে। মাছুম রবিনকে তার অর্থনৈতিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি কিডনি দেয়ার জন্য প্ররোচিত করে। পাসপোর্ট ছাড়া সে দেশে ফিরে আসতে পারবে না বলেও ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ভিকটিমকে নয়াদিল্লির এশিয়ান হাসপাতালে নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করায়। কিছুদিন পর ভারতের গুজরাটের একটি বাসায় তাকে আটকে রাখে।