পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মিয়ানমারও আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে মুক্ত হতে প্রত্যাবাসন শুরু করতে আগ্রহী। কিন্তু যেখানে ওদের নিরাপত্তা কর্মীই আমাদের দেশে পালিয়ে আসছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাব কীভাবে? রোহিঙ্গাদের জীবনমান বাড়ানো নয়, প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান।’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ওসিএবি) ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘রোহিঙ্গা সংকট: ভবিষ্যৎ গতিপথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছি। আশা করছি, মামলার রায় আমাদের পক্ষে আসবে। মিয়ানমারের ওপর প্রভাব আছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। এখানে ভারত ও চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সঙ্গে কাজ চলমান আছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিরগিজ রাজধানী বিশকেকে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী ছাত্রের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাসখন্দে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার জন্য শিগগিরই বিশকেক যেতে বলা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘আমরা উজবেকিস্তানে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ এতে বলা হয়, উজবেকিস্তান দূতাবাস বর্তমানে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সে দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর আহত বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর শেয়ার করা হয়েছে, যাতে এ বিষয়ে যেকোনো সমস্যায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

দূতাবাসের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমরা ঘনিষ্ঠ ও ক্রমাগতভাবে বিষয়টির পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি।’

ওসিএবির সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা আশাহত নই। কক্সবাজার এখনো বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে, রোহিঙ্গাদের নয়। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বেশ কঠিন। তবে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের আরো সতর্ক ও অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ ফেল (ব্যর্থ) করতে পারে না। যারা সহযোগিতা করছে তাদের ধন্যবাদ।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, টাকা সরকারের হাতে আসে না। দাতা সংস্থাদের অধীনে ইউএনের তত্ত্বাবধানে সরাসরি ক্যাম্পে চলে যায়।’