ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ার আগেই সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতায় গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিরোধ সবসময় প্রতিকারের চেয়ে উত্তম। আমাদের অবশ্যই ডেঙ্গুকে পরবর্তী মহামারী হয়ে ওঠার আগেই মোকাবেলা করতে হবে।’ গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউএইচসি ফোরাম ও ব্র্যাকের আয়োজনে ডেঙ্গুবিষয়ক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা অনেক আলোচনা এরই মধ্যে করেছি। আমি নির্দেশনা দিয়েছি যাতে ডেঙ্গুকালীন কোনোভাবেই স্যালাইন সংকট দেখা না দেয় এবং স্যালাইনের দামও না বাড়ে। ডেঙ্গুতে আমি নিজের মাকে হারিয়েছি। তাই ডেঙ্গু নিয়ে আমার চিন্তা আছে। আমি কাজ করব যাতে আর কারো প্রাণ না যায় এ রোগে। ‌সব রোগের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যাতে রোগটি কারো হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা যায়। যাতে মানুষের ডেঙ্গু না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা নির্মূলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন এবং যে ঘরে মানুষ থাকে সেখানকার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়লে হাসপাতালগুলোকে খালি রাখার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে করে পরে সার্জারি বা ভর্তি না করিয়ে চিকিৎসা দেয়া যায় এমন যারা আছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি না করে যাদের প্রয়োজন তাদের ভর্তি করা হয়।’

ইউএইচসি ফোরামের আহ্বায়ক ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপ অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। প্যানেল আলোচক ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি (সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. শেখ দাউদ আদনান, কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের (বিআরআইসিএম) মহাপরিচালক ড. মালা খান, ব্র্যাকের হেলথ অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম ও রেকর্ডকৃত ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য পরামর্শক ড. শাবানা রোজ চৌধুরী। ইউএইচসি ফোরাম ও ব্র্যাকের সহ-আয়োজকদের পক্ষ থেকে ডা. আমিনুল হাসান ও ড. ইমরান আহমেদ চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। 

‌বহু-অংশীজনের ওই সংলাপে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০২৩ সালে ডেঙ্গু রোগের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছিল। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ও ১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একসময় মৌসুমি হিসেবে বিবেচিত ডেঙ্গু এখন সারা বছর মহামারীতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪-এর মাত্র চার মাসে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪-৩০ সালের জন্য একটি জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে। তবে কৌশলটি বাস্তবায়নে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।