পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে গাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্ট ও হোটেল এক্স নামে দুই প্রতিষ্ঠান। গতকাল দুপুরে সরজমিনে পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে বনের জমির দখল ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে ভাওয়াল রিসোর্ট ও হোটেল এক্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা পরিচালনায় তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেননি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি গত কয়েকদিনে গাজীপুরে সাতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। এ সময় কোনো প্রতিষ্ঠানই পরিবেশের ছাড়পত্র দেখাতে পারেনি।

পরে গত ১৪ মে সাত প্রতিষ্ঠান মালিককে তলব করা হয়। শুনানি শেষে গাজীপুর সদর উপজেলার নলজানির ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তার হোটেল এক্সকে ১০ লাখ, গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ইউনাইটেড শক্তি লিমিটেডকে ১০ লাখ, শিরিরচালার কোয়ালিটি ইন্টিগ্রেটেড এগ্রো লিমিটেডকে ১০ লাখ, একই এলাকার মেঘনা এসোসিয়েটস লিমিটেডকে ১০ লাখ, ভবানীপুর এলাকার সোয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেডকে ১২ লাখ এবং একই এলাকার হলিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এসব প্রতিষ্ঠান বনসংশ্লিষ্ট জমির পাশে গড়ে উঠেছে। প্রথম অবস্থায় বনের আশপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও ধীরে ধীরে বন বিভাগের জমি দখল করেছে তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বন্যপ্রাণীর আবাস ও পরিবেশ।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘‌আমরা গাজীপুরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। ভাওয়াল রিসোর্টকে নোটিস দেয়া হয়েছে। শিগগিরই বনের জমি উদ্ধার করা হবে।’