টাকা ছাড়া কাজ হয় না যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে এ অফিসকে বেড়াজালে ঘিরে রেখেছে দালাল চক্রটি। এর মধ্যে রয়েছে অফিসের তিনজন কর্মী আর বাদবাকিরা ‘দালাল’
হিসেবে পরিচিত। এরাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করে অফিসটি। চক্রটি দপ্তরের প্রধান কর্তার আশীর্বাদপুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মকর্তা চক্রের সদস্যদের আদর করে ‘কুড়ি জিন’
বলে ডাকেন। যাদের মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাসপোর্ট অফিস এলাকায় প্রচার রয়েছে, টাকা দিলে এ জিনেরা দ্রুতগতিতে কাজ করে দিতে পারেন। নতুন পাসপোর্ট তৈরিসহ যেকোনো অফিশিয়াল কাজ করতে হলে নির্ধারিত দালালের শরণাপন্ন হতেই হবে। সরাসরি গেলে সুষ্ঠুভাবে কোনো কাজ হবে না। অভিযোগ, সেবাগ্রহিতারা সরাসরি গেলে তাকে মাসের পর মাস নানা অজুহাতে ঘোরানো হয়। আর দালাল চক্রের মার্কা দেয়া ফাইল গেলেই সেটা আগে জমা নেয়া হয়।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর ঘুঘুরইল গ্রামের আলী দফাদারের ছেলে মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, গত বছরের ১২ অক্টোবর তিনি পাসপোর্ট করতে কাগজপত্র নিজ হাতে জমা দেন। এ পর্যন্ত ছয়বার আসার পরও তিনি পাসপোর্ট হাতে পাননি। অথচ তার বন্ধু আজম দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন।
কেশবপুর উপজেলা শহরের আব্দুল আলী বলেন, কাগজপত্র জমা দেয়ার পর চারবার অফিসে গেছি। গত বছরের ২৯ নভেম্বর পাসপোর্ট ডেলিভারির দিন ছিল। ডিসেম্বর-জানুয়ারি ঘুরেও পাসপোর্ট হাতে পাইনি। অথচ আমার পর বহু লোক দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করে তারা বিদেশও চলে গেছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে ওষুধ দোকানের মালিক বাচ্চু বলেন, আমি পাসপোর্ট করতে দালালের মাধ্যমে না যাওয়ায় ছয় মাসেরও অধিক সময় ঘুরেছি। পরে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি।
শার্শা উপজেলার কালিয়ানি গ্রামের আবুল হোসের স্ত্রী সালমা বেগম, যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়ার তহিদুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান ও মণিরাপুরের তুশখালি দুর্বাডাঙ্গা গ্রামের সঞ্জয় মল্লিকদেরও একই রকম অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেনের নির্দেশনা মতেই এসব অবৈধ কারবার চলছে। সে লক্ষ্যে ‘কাজে’
নিয়োজিত আছেন অফিসের উপসহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন এবং অফিস সহকারী মোস্তফা জামান, আকমাম ও আজহারুল। আর এরাই চালান দালাল চক্রটি। দালালদের মাধ্যমে আসা টাকা-পয়সা লেনদেন ও অফিশিয়াল কাজ করে দেন তারা। তাদের নিয়ন্ত্রিত দালালরা হচ্ছেন শহরের বেজপাড়া রানার অফিস এলাকার ভজন, এমএসটিপি স্কুলগেট এলাকার স্বপন ও বিশ্বজিৎ, ছাদেক দারোগার মোড় এলাকার তাজউদ্দিন, সোনালী ব্যাংক এলাকার সোহেল ও বাবু ওরফে ঘুড়িবাবু, আদালত চত্বর এলাকার ভেন্ডার বাবু, সাইফুল ও মিজান, পাসপোর্ট অফিস এলাকার মিজান, জিরো পয়েন্ট মোড় এলাকার আনসার ও আতিয়ার, নাজিরশংকরপুর এলাকার শামিম ওরফে বেড়ে শামিম, চার খাম্বার মোড় এলাকার নিপু, রুহুল, টিটো খাঁ ও রহিম।
ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর অফিসে ঢুকতে পারেন। কিন্তু কাগজপত্র জমা দিলেই শুরু হয় অফিস সহকারীদের ভুলত্রুটি ধরার মচ্ছব।
এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এখানে সবকিছু নিয়মানুযায়ী হয়ে থাকে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।










