বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ রোড। কোটা সংস্কারের দাবিতে ১৯ জুলাই এখানে বিক্ষোভ করছিলেন একদল আন্দোলনকারী। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। সংঘর্ষ শেষে ঘটনাস্থলে সিয়াম (২০) নামে এক তরুণের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সিয়ামের মা-বাবা এখনো জানেন না, তাদের ছেলের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় কিনা সেই ভয়ে ছেলে হত্যার বিচার চাইতেও সাহস পাচ্ছেন না তারা।
সিয়ামের বাবার নাম মো. আশিক; মা শাপলা বেগম। বগুড়া শহরের হাড্ডিপট্টি এলাকায় তাদের বসবাস। শহরের অলিগলিতে ভাঙ্গাড়ি কুড়াতেন সিয়াম। সারা দিনে যা মিলত, তা বিক্রি করে মা-বাবাকে সহযোগিতা করতেন তিনি। ছেলের অকালমৃত্যুতে শোকাহত বাবা-মা জানতে পারেননি সংঘর্ষে কীভাবে সিয়াম নিহত হলেন। সিয়ামের মৃত্যুর বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হাড্ডিপট্টিতে তাদের বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক। কিন্তু তার মা-বাবার কাছ থেকে কোনো তথ্য জানা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝামেলা হবে, এ ভয়ে তারা কিছু বলতে চাননি।
প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় আট বছর আগে বগুড়া শহরের স্টেশন এলাকায় সিয়ামকে কুড়িয়ে পান আশিক-শাপলা দম্পতি। ছোটবেলায়ই জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় সিয়ামকে।
স্থানীয়রা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী বারোয়ারি পূজামণ্ডপের সামনে সিয়াম গুলিবিদ্ধ হন। ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯ জুলাই বগুড়া শহরে থমথমে অবস্থা ছিল। শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকার সাতমাথায় সেদিন মানুষের উপস্থিতি ছিল না। এর মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ রোডে বিক্ষোভ শুরু করে একদল যুবক। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শেষে সড়কের এক পাশে সিয়ামের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।










