বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বাসস।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এ লক্ষ্যে গত ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৃথক সচিবালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্ত আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। এতে সচিবালয়ের কাঠামো, রুলস অব বিজনেস এবং এলোকেশন অব বিজনেসের খসড়া উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে পৃথক ‘জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশ এবং প্রতিবেশী দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে এ কাউন্সিলের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত কাউন্সিলে ১০ জন সদস্য থাকবেন। প্রধান বিচারপতি এর চেয়ারম্যান হবেন। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মনোনীত একজন আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং দুইজন নাগরিক প্রতিনিধি।
নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রার্থীদের থেকে দরখাস্ত আহ্বান এবং গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধিরা আইন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে পৃথক সচিবালয়ের কাঠামো এবং কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় প্রক্রিয়াধীন।
বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বিচারক বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রচলিত দ্বৈত শাসন বন্ধ হবে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু এবং কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তিনি অভিষেক বক্তৃতায় এবং পরে সারা দেশের বিচারকদের সঙ্গে আলোচনায় বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
সংবিধানের ৯৫ ও ৯৮ অনুচ্ছেদের আলোকে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য পৃথক অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।










